মোবাইল নয়, চাচীর পরকীয়া দেখে ফেলার কারনেই নরসিংদীতে কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবেই। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত তমুজা বেগম। আর পরকীয়ার ঘটনা যেন কেউ বুঝতে না পারে সেজন্যই পুড়িয়ে মারা হয়েছে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে।

নিহত স্কুলছাত্রী আজিজা খাতুন (১৩)নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা খৈনকুট গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে । সে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রী। বাবা সাত্তার স্থানীয় একটি মুরগীর খামারে চাকরি করেন। এদিকে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আজিজার চাচি বিউটি বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেছেন নিহতের পিতা সাত্তার মিয়া। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিউটি বেগমের মা সানোয়ারা বেগম, তার ভাই রুবেল মিয়া ও তার ফুপু শাশুড়ি তমুজা বেগম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

নিহত আজিজার ভাই সুজন ও মা রেহেনা বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গাছের পাতা কুড়ানোর সময় স্কুলছাত্রী আজিজার চাচি বিউটি বেগম ও তার ভাই রুরেল মিয়া একটি সিএনজি দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার বাড়ির অদূরে একটি উচু টিলায় নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয় এবং শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলেও তার আগেই আগুনে প্রায় ৯৬ শতাংশ পুড়ে যায় আজিজার শরীর। ফলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশ। এরই জের ধরে সন্দেহজনকভাবে বিউটি বেগমের ফুফু তমুজা বেগমকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় আটক তমুজা পুলিশের কাছে নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন।

পুলিশের হাতে আটক তমুজা বেগম বলেন, গত তিন মাস পূর্বে বিউটি বেগমের স্বামী মালোয়েশিয়া যায়। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর বিউটি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রেমিকের সঙ্গে অবাদে মেলামেশা শুরু করে। এরই মধ্যে বিউটি বেগমের সঙ্গে তার প্রেমিকের অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলেন স্কুলছাত্রী আজিজা।

এরপর থেকেই আজিজাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অংশ হিসেবে মোবাইল চুরির নাটক সাজানো হয়। ঘটনাকে বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল চুরির অপবাদ দেয়া হয় আজিজা ও তার বোনকে।