পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাটি। ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে এই কথা আমরা কম করে হলেও হাজার বার পড়েছি। কিন্তু আমরা কতজন আছি এই কথা মেনে চলি। কিন্তু যারা পরিশ্রম করে গেছেন তাঁরা কিন্তু এই পৃথিবীতে সফল হয়েছেন।

প্রত্যেকটা সফল ব্যক্তির পেছনের গল্প হচ্ছে ধৈর্য, মনোবল আর অমানসিক পরিশ্রম। যারা অসময়ে ধৈর্য ধরেছেন, দুঃসময়ে মনোবল না হারিয়ে অমানসিক পরিশ্রম করে গেছেন তাঁরাই সফল হয়েছেন। এই পৃথিবী তাদের মনে রেখেছে। তাদের অনেক মরে গেলেও তাদের কর্ম তাদেরকে বাচিঁয়ে রেখেছে হাজার বছর ধরে।

আজকে জুমবাংলার পাঠাকদের জন্য এমন একজন সফল ব্যক্তির কথা তুলে ধরবো যার সাফল্যের গল্প শুনে আপনি অনূপ্রাণিত হবেন। তিনি হলেন ভারতের এসডি এল্যুমিনিয়াম ফয়েল কোম্পানির মালিক সুদিপ দত্ত। আসুন জেনে নেই তাঁর সফলতার গল্প।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...
সুদিপ দত্তের শুরুটা ছিল মাত্র ১৫ টাকা বেতনের চাকরি দিয়ে। তার বাবা যুদ্ধে প্যারালাইজড হয়ে যান, একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ভাই চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। সেই শোকে বাবারও মৃত্যু হয়। বন্ধুদের পরামর্শে সে উপার্জনের আশায় ১৬ বছর বয়সে দুর্গাপুর থেকে মুম্বাই আসে। রেলস্টেশন এ ক্ষুধার্ত পেটে তাকে ঘুমাতে হয়। তারপর মাত্র ১৫ টাকা বেতনে একটি ফ্যাক্টরিতে তাঁর চাকরি হয়।

কিন্তু এই প্রায় ৪০ কিলোমিটার হেঁটে ফ্যাক্টরিতে গিয়ে কাজ করতেন তিনি। কারণ একটাই অল্প বেতন পাই তাই টাকা বাচাঁতে সে প্রদিতিন এত দূর পায়ে হেটে ফ্যাক্টরিতে যেত। শুধু তাই নয় সে যে রুমে থাকতো তার পরিবেশটাও ছিল অনেকে খারাপ। ২০ জনের একরুমে সে কোনমতে ঘুমাতো। দুই বছর পর হঠাৎ একদিন ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে তার ভাগ্যে ঘুরলো নতুন চাকা। তিনি ২ বছরের জমানো টাকা, বন্ধুদের থেকে ঋন আর মালিককে আগামি ২ বছরের লাভের ভাগ দেয়ার চুক্তিতে সে ফ্যাক্টরি কিনে নেয়।

১৯ বছরের ছেলে যার নিজের খাওয়ার কিছু ছিল না, সে তার ফ্যাক্টরির ৭ জন শ্রমিকের পরিবারের খাবার জোগায়। তখন অ্যালুমিনিয়াম প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রির খুব দুরঅবস্থা, তবে তিনি তার ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে খারাপ মার্কেট আর বড় কম্পিটিটর দের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। ধীরে ধীরে কোস্পানীর উন্নতি ঘটতে থাকে। বর্তমানে তিনি ১৬০০ কোটি টাকা মূল্যের এলুমিনিয়াম ফয়েল কোম্পানির মালিক।