রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরজিনার পরকীয়া প্রেমের কারণেই কি এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে? এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা শহরে দু-দুটো জোড়া খুনের ঘটনা নগরবাসীকে উদ্বেগে ফেলেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব। এর প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিজীবনে। মানুষ সম্পর্কগুলোকে পরোয়া করছে না। তাই অপরাধ করেন।
বাড্ডার ময়নারবাগ কবরস্থানের পাশে ‘পাঠানবাড়ি’ নামের চারতলা একটি বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ঘর থেকে গাড়িচালক জামাল শেখ (৩৮) ও তাঁর দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে নুসরাত আক্তার জিদনীর (৯) লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনাকে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, স্ত্রী আরজিনা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে তিনিই স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। আটকের পর আরজিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।
পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের কবরস্থান রোডের ৩০৬ নম্বর বাড়ির ৩য় তলার দুটি ঘর ভাড়া নেন গুলশানের একটি বেসরকারি কোম্পানির গাড়িচালক জামিল শেখ। মেয়ে বাড্ডা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত, ৪ বছরের ছেলে আলিভ ও স্ত্রী আরজিনাকে নিয়ে এক ঘরে থাকতেন, আর একটি ঘর সাবলেট দেন এক দম্পতিকে। বৃহস্পতিবার লাশ উদ্ধারের সময় ওই দম্পতি ঘরে ছিলেন না। বুধবার রাতে তারা ঘরে তালা মেরে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের রাতেই তাদের চলে যাওয়াটা সন্দেহের চোখে দেখছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ— এই হত্যাকাণ্ডে আরজিনা জড়িত। আরজিনার চালচলন ভালো ছিল না। তার পরকীয়া প্রেম নিয়ে দাম্পত্য কলহ ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডে পরিবারের কারো হাত রয়েছে। পারিবারিক টানাপড়েন থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারনা এই পুলিশ কর্মকর্তার।
বাড়ির মালিক নাসিমা দুলাল জানান, মাসে সাত হাজার টাকায় দুটো কক্ষ ভাড়া নেন জামাল। পরে আবার একটি কক্ষ শাহীন নামের একজনকে সাবলেট দিয়ে দেন। এই হত্যার জন্য এখন শাহীনকেই সন্দেহ করছে পুলিশ।
বাড়ির বাসিন্দারা বলেন, ইউসুফ নামে চারতলার এক বাসিন্দা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য যখন নিচে নামছিলেন, তখন তিনি জামালের স্ত্রী আর্জিনাকে ঘরের সামনে বসে কাঁদতে দেখেন। নামাজ পড়ে ফেরার সময়ও একই অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি নিচের তলায় থাকা বাড়ির মালিকের স্ত্রী নাসিমা দুলালকে জানান। নাসিমা তাঁর আরেক ভাড়াটে জ্যোৎস্না বেগমকে ঘটনাটি দেখার জন্য পাঠান।
জ্যোৎস্না বলেন, তিনি গিয়ে আর্জিনাকে জিজ্ঞেস করেন কী হয়েছে, আর্জিনা তাঁকে বলেন, রাতে চারজন ডাকাত এসে তাঁদের দরজায় শব্দ করে। জামাল দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে ঢুকে প্রথমে তাঁর (আর্জিনা) মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তাঁকে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফিরলে স্বামী ও মেয়ের লাশ বিছানার ওপর দেখতে পান।
জানা যায়, জামালের সঙ্গে ঝগড়া করে আর্জিনা তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাবার কাছে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে টানা দুই মাস থেকে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফিরেছিলেন। এরপর কোনো ধরনের ঝগড়াঝাঁটির খবর তাঁরা পাননি। তবে আর্জিনাকে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিচ্ছিলেন না জামাল।
পুলিশ সূত্রগুলোও আর্জিনাকে সন্দেহ করে। প্রধান হত্যাকারী হিসেবে তাদের সন্দেহ প্রতিবেশী শাহীনকে। এ ক্ষেত্রে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।





