ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকে বিপাকে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে একজন ভূক্তভোগী হচ্ছেন কামরাঙ্গী চর থেকে আসা রহিমা বেগম। রহিমা সকাল ১১ টার দিকে কামরাঙ্গী চর থেকে রওনা দিয়ে,
ভ্যান গাড়িতে করে তার মাকে নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রহিমা বিডি২৪লাইভকে বলেন, রাস্তায় কোনো গাড়ি পাই নাই তাই মাকে ভ্যানে করে নিয়ে এসেছি। আমার মায়ের অবস্থা আমি বুঝিনা, “একেক ডাক্তার একেক রকম কথা বলেন। কেউ বলে প্রেশারের সমস্যা আবার কেউ বলে ব্রেনের সমস্যা” এইখানে এসে আরেক বিপদে পড়েছি! টোকেন ছাড়া ভিতরে ঢুকতে দিবেনা, আর টোকেন নিতে অনেক বড় লাইন।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টা থেকে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেই ভোগান্তির একটি চরিত্র রহিমা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টানা ২ ঘণ্টা বহির্বিভাগ বন্ধের ফলে রোগীর লাইন যেমন দীর্ঘ হয় তেমনি ভোগান্তির যেন কোন শেষ হয়না। টোকেন ছাড়া ভিতরে না ঢুকতে দেওয়ার ফলে অনেক রোগীকে দেখা যায় বহির্বিভাগের গেটের সামনে রাস্তার মধ্যে রোগীকে রেখে স্বজন দাঁড়াচ্ছে টোকেন নেওয়ার লাইনে।
টোকেন গেটের সামনে সাইফুল ইসলাম নামের এক রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে আমি এমনি ভিতরে ঢুকে বসে থাকতাম পরে আমার ভাই টোকেন আনলে ডাক্তার দেখাতাম। আজকে কি হয়েছে জানিনা। অনেক লাইন আমি ২ ঘণ্টা রাস্তায় বসে আছি এখনও আমার ভাই টোকেন পায় নাই।
একাধিক রোগীর স্বজনরা বলেন, এমনিতেই টিকিট কাউন্টারে লোক অনেক কম, তার মধ্যে যদি এরকম বন্ধ হয়ে যায় হুটহাট করে তবে আমরা কোথায় যাব। এমন আন্দোলন আরো কত সময় চলবে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিডি২৪লাইভকে জানান, “যতক্ষণ পর্যন্ত ডাক্তারদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় না আনা হবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।”
উল্লেখ্য নওশাদ নামের ৫২ বছর বয়সী এক হৃদরোগী গত রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে, রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে হামলা করে। ওই ঘটনায় চারজন চিকিৎসক, তিনজন আনসার ও কয়েকজন নার্স আহত হন; শামিম নামে একজন চিকিৎসকের হাত ভেঙে যায়। হামলার পর নিরাপত্তার কথা বলে চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা তিন ঘণ্টা বন্ধ রাখেন। ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েন বিপদের মধ্যে। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।





