নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি রাস্তায় ট্রাক তুলে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময়ে কমপক্ষে আরও ১২ জন আহত হয়েছে। হামলার পর ট্রাক থেকে পালানোর সময় সাইফুল্লা হাবিবুলেভিক সাইপোভ (২৯) নামের এক যুবককে গুলি করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাইপোভ উজবেকিস্তান থেকে আসা অভিবাসী। তিনি ফ্লোরিডায় থাকতেন। পুলিশ জানায়, ২০১০ সালে উজবেকিস্তান থেকে আমেরিকায় অভিবাসী হয় সাইপোভ। ম্যানহাটনে হামলার প্রস্তুতির জন্য সম্প্রতি তিনি ফ্লোরিডা থেকে নিউজার্সির প্যাটার্সন এলাকায় থাকতে শুরু করেন।
উজবেকিস্তান থেকে আসা ওহাইওর বাসিন্দা দিলফুজা ইসখাকোভা মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, উজবেকিস্তান থেকে আসার পর সাইপোভ কয়েক মাস তার কাছে ছিলেন।
ওই সময় তাকে ভালোই মনে হয়েছিল। তিনি তখন একটি পণ্যের গুদামে কাজ করতেন ও খুব কম কথা বলতেন। কর্মক্ষেত্র ও বাসার বাইরে কোথাও খুব একটা যেতেন না।
তিনি আরও জানান, সাইপোভের সঙ্গে পরিচয়ের সময় তিনি গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী ও ছোট দু’টি সন্তান আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। সাইফুল্লা উগ্রধার্মিক ছিলেন কি-না সেটাও তিনি জানেন না।
দিলফুজা বলেন, ‘সাইপোভের বাবা আমার স্বামীকে চিনতেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে চিনতেন না বলে তার বাবা তাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এখান থেকে সাইফুল্লা ফ্লোরিডায় চলে যান। সেখানে তিনি ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিউজার্সিতে গিয়ে তিনি উবার ট্যাক্সি চালাতেন।’
কবিলজন মাকারোভ নামের অপর এক উজবেক অভিবাসী বলেন, ‘সাইপোভ ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করার সময় ফ্লোরিডায় তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। ওই সময় তাকে ভালো মানুষই মনে হয়েছিল। তখন তাকে সন্ত্রাসী মনে হয়নি।’
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ভাড়া করা একটি ট্রাক নেয় সাইপোভ। এরপর সে ম্যানহাটনের পশ্চিম দিক থেকে মূল রাস্তার বাইক লেনে প্রবেশ করে পথচারীদের ওপর ট্রাক তুলে দিতে থাকে। এ সময় লোকজন রাস্তার পাশে ছিটকে পড়তে থাকে। পরে চেম্বার স্ট্রিটের মোড়ে একটি স্কুলবাসের সঙ্গে ট্রাকটির ধাক্কা লাগে।
এরপর গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বেরিয়ে আসে সাইপোভ। পরে জানা যায়, তার কাছে থাকা অস্ত্র দু’টি ছিল খেলনা বন্দুক। এ সময় টহল পুলিশের করা গুলি সাইপোভের পেটে লাগে।
এরপর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর সাইপোভের পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলা চালাতে ব্যবহার করা ট্রাকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে যাতে লেখা, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষ থেকে এ হামলা।





