কাতারে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আবারও বড় ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রণীত আইনে গত সপ্তাহে নতুন সংশোধনী এনেছে কাতার শ্রম কর্তৃপক্ষ। আর এতে অনুমোদন দিয়েছে কাতার মন্ত্রী পরিষদ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রম সংস্থা কাতারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এর প্রশংসা করেছে।
এসব পদক্ষেপের অন্যতম একটি হলো, বিদেশি কর্মীদের দেশে যাওয়ার বেলায় নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিশেষ কিছু পেশার লোকজন ছাড়া বাকি যে কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগকর্তার অনুমতি নেওয়া ছাড়া ছুটিতে বা চিরতরে দেশে চলে যেতে পারবেন। কাতারের মন্ত্রী পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১৪ নম্বর আইন- যা শ্রম আইন হিসেবে পরিচিত- এই আইনের আওতায় যেসব কর্মী কাতারে কর্মরত রয়েছেন, তারা কাতার ত্যাগ করতে হলে তাদের নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। এমনকি আগের সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, মালিক বা নিয়োগকর্তাকে দেশে যাওয়ার ব্যাপারে অন্তত জানানোর যে প্রমাণ দেখাতে হতো, সেটিও আর লাগবে না।
তবে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, যে পদে কর্মরত ব্যক্তি কাউকে না জানিয়ে কাতার ত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে বা প্রশাসনিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, সেসব কর্মীর বেলায় নিয়োগকর্তাকে জানানো ও তাঁদের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি বহাল থাকবে। যেমন, যাদের হাতে কোম্পানির হিসাব ও অর্থ লেনদেনের দায়িত্ব- কিংবা যাদের নামে প্রতিষ্ঠানের ঋণ রয়েছে অথবা যার কাছে প্রতিষ্ঠানের যানবাহন ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম রয়েছে, এমন কেউ দেশে যেতে হলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের মালিককে জানিয়ে যেতে হবে।
বিদেশি কর্মীদের জন্য দেশে যাওয়ার প্রাক্কালে নিয়োগকর্তার অনুমতি নেওয়া বা তাকে জানানোর বাধ্যবাধকরা বাতিলের পাশাপাশি সম্প্রতি কাতারে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৩৬টি চুক্তি ও ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে কাতার শ্রম কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী ড. ইসা বিন সাদ জাফালি আল নোয়াইমি সম্প্রতি এ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন। দোহায় বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মিশনের প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠককালে মন্ত্রী এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কাতারে যেসব দেশ শ্রমিক রপ্তানি করে থাকে সেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়েছে।





