রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রা পথে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ লাখ লাখ লঞ্চযাত্রী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২০ জেলার লাখ লাখ মানুষের প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা মানেই ঢাকা নদী বন্দর বা সদর ঘাট হয়ে চলাচলকারী লঞ্চ। আর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলা, মনপুরা, হাতিয়ার একমাত্র (ফেরিছাড়া) যান লঞ্চ।
পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ সদর, মিরকাদিম, পঞ্চবটি, গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ পাগলার বাসিন্দাদের বেশ বড় একাংশ প্রতিদিন লঞ্চে করে যাতায়াত করছে। কিন্তু দক্ষিণা লাখো মানুষকে জিম্মি করে রেখে সদঘাটের ইজারাদাররা। ভ্রমণকারীদের লাগেজ, বস্তা, আসবাবপত্র, মোটরসাইকেলসহ যাবতীয় পণ্য আটকে নির্ধারিত হারের চেয়ে ১০/১৫ গুণ অতিরিক্ত টোল জোর করে আদায় করছে ইজারাদারদের লালবাহিনী নামক ঘাট শ্রমিকরা। এ বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও ভাবে প্রচারিত হলে অবস্থার কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রীও একাধিকবার গর্ব করে বলেছেন, ”দেখতে হলে ফিটফাট, চলে আসুন সদরঘাট”। আসলেই কী ঘাট ফিটফাট।
সত্যিকার অর্থে সদরঘাট ঘুরে আসলেই ফিটফাটের ভেতরে থাকা অন্য এক সদরঘাটের চিত্র চোখে ধরা পড়বে। সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকার মোটর সাইকেলের টোল ২০০/৩০০ টাকার কম দিলে গেলে যাত্রীরা নাজেহাল হন কুলি ও ইজারাদারের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে। এসব অপকর্মে সহায়তার করছে খোদ বিআইডব্লিউটিএ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশও। কত যাত্রী প্রতিদিন এই ঘাটে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তার সঠিক হিসেব নেই।
কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোলের তালিকায় বলা হয়েছে- একটি ফ্রিজের জন্য ৫০ টাকা, স্টিল বা কাঠের খাট ১০০ টাকা, টেলিভিশন ২০ টাকা, ১০ কেজি ওজনের ব্যাগ বহনের জন্য ১০ টাকা, ৪০ কেজির ব্যাগে ৩০ টাকা, মোটরসাইকেল ২৫ টাকা, বাইসাইকেল ২০ টাকা, কাপড়ের গাইট ৫০ টাকা, হার্ডওয়্যার ৪০ টাকা, সিলিংফ্যান ২০ টাকা। আর পণ্য মালিক ইচ্ছে করলে কুলি ছাড়া নিজেই তা বহন করতে পারবেন। কিন্তু সরকারি এই মূল্যে তালিকাকে তোয়াক্কা না করে ১০/১৫ গুণ আদায় করছে ইজারাদারের লোকজন। একইভাবে কুলিরাও জোর করে মালামাল তুলে জোরপুর্বক টাকা-পয়সা ইচ্ছেমতো আদায় করছে। আর বিদেশ ফেরত যাত্রীর লাগেজ দেখলে তো কথাই নেই। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সদরঘাটের ইজারা ছিল ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। শর্ত ছিল-ঘাটের মালামাল, পার্কিং এলাকা ও পাশ্ববর্তী তিনটি নৌকাঘাট-ওয়াইজঘাট, সিমসন ঘাট, কার্গোগেটে শুধু বাণিজ্যিক মালামাল ওঠানামার লেবার হ্যান্ডেলিং এবং পার্কিং ইয়ার্ডে চার্জ (যাত্রী সাধারণের লাগেজ ও ব্যাগেজ ব্যতিত) বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত হারে আদায় করবেন। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টোটা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারবার অতিরিক্ত টোল আদায় ও জবরদস্তি নিয়ে সংবাদ আসলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছেনা।সম্প্রতি একাধিকবার সদরঘাটের বাবা-মা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নানা হয়রানির অভিযোগ পেয়ে এই ইজারা বাতিল করে। কিন্তু হাল ছাড়েনি ইজারাদারগণও । একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএ ম্যাজিসট্রেট এর ওপর হামলাও করেছে এই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীবাহিনী।
দক্ষিণা মানুষগুলো যাত্রা পথেঢ় এই হয়রানী থেকে আজ মুক্তি চায়।ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী মোরশেদ আলম নামে একজন লঞ্চযাত্রী বলেন, আমরা পদে পদে এই ঘাটের কুলিদের হাতে লাঞ্ছিত হই। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষন করে আরও বলেন, এখানকার এমপি সাহেব যদি এবিষয়ে একটু নজর দিতেন তাহলে হয়তো আমরা এই জনদূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম। সবকিছু দেখে পুলিশও না দেখার ভান করে। তাহলে আমরা ভুক্তভোগীরা কার কাছে এর বিচার চাইব?





