কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে টাকাসহ আটক হয় ৭ ডিবি পুলিশ সদস্য। এই অভিযোগের এক দিন পড়েই এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে।

নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে।

ওই আসআই-এর অপকর্ম সহ্য করতে না পেরে অবশেষে খোদ ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সূত্রে যানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর (সোমবার) রাতে হারবাং এলাকার বাসিন্দা ও স্বর্ণ দোকানের কর্মচারী দেবু ধর ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়ার বাসিন্দা প্রবাসী যুবক রিদুয়ানকে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

এরপর ওই দোকান কর্মচারীকে অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে এসআই আতিক উল্লাহ তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। পরে তার মহাজনকে ফাঁড়িতে আসতে বলে। তিনি ওইদিন রাতে ফাঁড়িতে এসে দর কষাকষির পর ১৭ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন। একইভাবে প্রবাসী যুবক রিদুয়ানের কাছ থেকেও ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন এই এসআই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ারেন্ট আছে বলে হারবাং ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার এক মহিলার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা আদায় করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

অপরদিকে, একই ইউনিয়নের গয়ালমারার এলাকার যুবক মুনির একটি মামলায় জামিনে রয়েছে জানার পরও ওই মামলায় ওয়ারেন্ট আছে দাবি করে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করলে নির জামিনের কপি দেখালেও নাছোড়বান্দা এসআই আতিক তার কাছ থেকে জোড় করে ৪ হাজার টাকা আদায় করে।

শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সড়কে টহল দেওয়ার সময় যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বর্ণ দোকানের কর্মচারী দেবু ধর বলেন, প্রতিদিনের মতো চাকরি শেষে লোহাগাড়া থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকায় গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে একদল পুলিশ আমাকে আটক করে। ওই সময় পেকুয়ার এক যুবককেও আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। ফাঁড়িতে যাওয়ার পর এসআই আতিক উল্লাহ আমার হাতের আঙুলে থাকা একটি স্বর্ণের রিং খুলে নেয়।

তিনি বলেন, ফাঁড়িতে নেওয়ার পর আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন সেই এসআই। কিন্তু টাকা দিতে পারবো না বলে জানালে তিনি আমাকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরে ওই পুলিশ অফিসার আমার মহাজনকে ফোন করে ফাঁড়িতে ডেকে এনে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর ছেড়ে দেন। একইভাবে আমার সাথে ফাঁড়িতে আনা প্রবাসী যুবকের কাছ থেকেও ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি।

স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী ও প্রবাসী যুবককে আটক করে টাকা আদায়ের ঘটনাটি অস্বীকার করে এসআই আতিক উল্লাহ বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমার জানা নেই। পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আইসি সাহেব আমার ব্যাপারে কেন পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন, তা ওনার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.মিরানুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এসআই আতিক উল্লাহর ব্যাপারে অনেক কিছু শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ না করায় কিছু করতে পারছিনা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা পত্রিকায় যত লেখালেখি করেন না কেন কোনো কাজ হবে না।

আইসি তোফাজ্জল বলেন, তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। পুলিশ সুপার আবেদনটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো কপি এখনো আমার কাছে আসেনি। আমি এখন টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছি।

হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি (তদন্ত) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা। আমরাই যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করি সেটা খুব দুঃখজনক। ফাঁড়ির এসআই আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আমি পেয়েছি। তাকে অনেকবার বলেছি অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনছেন না।