বরগুনার আমতলীতে শ্যালিকা মালা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার পর সাত টুকরো করার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুলাভাই আলমগীর হোসেন পলাশ। আজ বুধবার দুপুরে বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
এ মামলার অপর আসামি অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। পরে উভয়কেই জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হুমায়ূন কবীর।
আদালতের স্বীকারোক্তি সম্পর্কে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, পলাশকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের কথা শিকার করেন। একইসঙ্গে আইনজীবী মাইনুল আহসান বিপ্লব এ হত্যাকাণ্ডে পলাশকে সহায়তা করেছেন বলে পুলিশকে জানান তিনি। এরপর বিপ্লবকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে পলাশকে আরও যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের নামও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন পলাশ। তাই এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তাদের প্রচেষ্টা শুরু করবে বলেও জানান তিনি। মৃতদেহ থেকে যাতে দ্রুত দুর্গন্ধ ছড়াতে না পরে, সেজন্য হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহের টুকরোগুলো ড্রামে ভরার আগে পানি দিয়ে প্রতিটি টুকরো ভালভাবে ধুয়ে রক্ত দূর করা হয় বলেও জানান তিনি।
নিহত মালার মামা মো. হাবীব খান জানান, মালা গর্ভে থাকা অবস্থায়ই মালার বাবা মো. আবদুল মান্নান মালার মাকে ডিভোর্স দেন।
এরপর থেকে তিনি মালার মাকে দেখাশুনা করেন। পরে মালার জন্মের পর প্রায় ১৩ বছর পর্যন্ত তিনি মালাকে লালনপালন করেন এবং মালার মা মোসা. আকলিমা বেগমকে ঢাকায় এক শ্রমিকের সঙ্গে আবার বিয়ে দেন। সেখানেও আকলিমা বেগমের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো. হাবীব আরও বলেন, “প্রাপ্তবয়স্ক হলে মালাকে তিনি তার মায়ের কাছে তুলে দিয়ে জীবন ও জীবিকার তাগিদে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনিও ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকেই বাবাহারা মালার সংগ্রামী জীবন শুরু হয়।
কখনও এ স্বজন কখনও ও স্বজনের বাসায় থেকে এসএসসি পাশ করেন মালা। পরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কলাপাড়া মেনহাজ উদ্দীন বিশ্বাস কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন মালা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে এরপর থেকে মালা ও তার পরিবারে সঙ্গে তাদের অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসণ্ডা গ্রামের মৃত আবদুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হোসেন পলাশের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় মালার ফুফাতো বোন মেরির।
পলাশ বর্তমান বরগুনার ঘটবাড়িয়া আদর্শ কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। মালা তার ফুফাতো বোন মেরির বাসায় মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসতেন। একপর্যায়ে দুলাভাই পলাশের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হলে গত ২২ অক্টোবর পলাশ মালাকে নিয়ে তার ভাগ্নি জামাই আমতলীর হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বাসায় যান। সেখানে মালাকে তিনি গলা কেটে হত্যার পর মৃতদেহটি সাত টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে লুকানোর চেষ্টা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ অক্টোবর বরগুনার আমতলীর হাসপাতাল রোডের অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বাসায় মামাতো শ্যালিকা মালা আক্তারকে নিয়ে বেড়াতে যান দুলাভাই আলমগীর হোসেন পলাশ।
মঙ্গলবার সকালে ওই বাসায় মালাকে গলা কেটে হত্যার পর মৃতদেহ সাত টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে তা লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন পলাশ ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুটি ড্রাম থেকে মালার সাত টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পলাশের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে সহযোগিতার করার অভিযোগে ওই বাসার মালিক অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকেও গ্রেপ্তার পরে পুলিশ।
এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম বাদল বাদী হয়ে মো. আলমগীর হোসেন পলাশ ও অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বিরুদ্ধে হত্যা ও মৃতদেহ লুকানোর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।





