সংযুক্ত আরব আমিরাতের চ্যারিটি আইন কার্যকর করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে নয় যে প্রকৃত অভাবীদের জন্য অর্থ উত্তোলন করা যাবে না বরং এটা নিশ্চিত করার জন্য যে, এই অর্থ যেন ভুল ব্যক্তিদের হস্তগত না হয়,

যেমন- মানি লন্ডারদের এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের। এটাই হ”েছ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স এন্ড চ্যারিটেবল এ্যক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) বার্তা।

সম্প্রতি অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে একজন দুবাই প্রবাসীকে আটকের পর মহানুভব ব্যক্তিদেরকে পুন;নিশ্চয়তা দিতে কর্মকর্তাগণ এ পদ ক্ষে প নেন। তিন সপ্তাহ জেলে থাকার পর গত সপ্তাহে একজন ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক স্কট রিচার্ডকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তাকে আইএসিএডির অনুমোদন ছাড়া এক ওয়েব সাইটের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ৫শ’ ডলার উত্তোলন করেছেন যারা আফগানিস্তানের একটি শরণার্থী ক্যাম্পকে সাহায্য করেন। রিচার্ডের আটকের পর থেকে দাতব্য সং¯’ায় দান এবং এ সংক্রান্ত নিয়ম নীতির বিষয়ে বিভিন্ন উদ্বিগ্ন অধিবাসীদের থেকে পত্রিকা অফিসের নিকট বহুসংখ্যক কল এবং মেসেজ আসতে থাকে। কিš‘ আইএসিএডির চ্যারিটেবল এস্টাবলিশমেন্ট এন্ড এ্যাক্টিভিটিসের প্রধান তারিক আব্দুল্লাহ আল আবাদী বলেন, এই আইনের উদ্দেশ্যই হল অর্থ উত্তোলকদের এবং প্রকৃত অভাবীদেরকে সুরক্ষা করা। আল আবাদী বলেন যে, লোকজন বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।

আইএসিএডির ১৭ টি নিবন্ধিত চ্যারিটির কোন একটির মাধ্যমে অথবা আইএসিএডির ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সাহায্যে অনুমোদন নিয়ে নিজস্ব ক্যাম্পেইনের জন্য অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। “আমরা অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে ফান্ড রাইজিংকে সুসংহত করতে চাই, যেমন- রেড ক্রিসেন্ট। এর লক্ষ হল এই অর্থ এবং সহায়তা যেন সঠিক লোকজনের কাছে পৌছে”- আল আবাদী বলেন। “আমরা চাই না এই অর্থ ভুল লোকের হস্তগত হোক বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অথবা সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে”।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, মাথা পিছু সাহায্যের হিসাবে আরব আমিরাত সর্বাধিক বৈদেশিক সহায়তা দাতা দেশ। “অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত যে কোন কার্যক্রম নগদ অর্থ হোক বা বিভিন্ন আইটেম হোক এবং এর জন্য যে কোন বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে আইএসিএডি কর্তৃক লাইসেন্স প্রাপ্ত দাতব্য সং¯’ার অনুমোদন থাকতে হবে যেটা আমাদের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে”- তিনি যোগ করেন। “দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আবেদন প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দিতে এবং দ্রুততর করতে সহায়ক হবে।

এটা ফ্রি সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট কাগজ-পত্র বিবেচনার পর এর জন্য সময় লাগবে মাত্র ১৫ কার্য দিবস”। কিš‘ যেসব লোক ছোট খাট বিষয়ে অর্থ উত্তোলন করতে চায়, যেমন হাসপাতালে ভর্তি থাকা বন্ধুর জন্য, তাদের বিষয়টা কী হবে? এ বিষয়ে আল আবাদী জোর দিয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি একে অপরের জন্য অর্থ উত্তোলন করতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা উত্তোলনের জন্য সার্বজনীনভাবে আহ্বান জানানো না হবে, যেমন- আইএসিএডির পূর্ব অনুমতি ব্যতিত মিডিয়ার মাধ্যমে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি আরো যোগ করেন, “এমনকি ম্যারথন দৌড়ে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি দাতব্য অর্থ তুলতে চায় তাকেও এ ধরণের কোন লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংযোগে এই অনুমতি নিতে হবে।

বিষয়টা এটার নিশ্চয়তা দিবে যে উত্তোলিত অর্থ যথার্থ ব্যয় করা হয়েছে। “অনুমোদন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া বা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা বেআইনী। “এসব বিধি বিধানের উদ্দেশ্য হল দাতাদের অর্থ সুরক্ষা করা, এটা নিশ্চিত করা যে উদ্দিষ্ট কার্যেই উক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং দানের জন্য আইনসিদ্ধ এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা। আমরা স্ব”ছ চ্যারিটি চ্যানেলের সাথেও সংযোগ রাখতে চাই”।

তিনি বলেন, ১৭ টি নিবন্ধিত চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন রয়েছে এবং আইএসিএডি গত তিন বছরে ১ হাজার চ্যারিটেবল কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, “যে কেউ অর্থ উত্তোলন করতে চাইবে তাকে অবশ্যই আমাদের নিকট আবেদন দাখিল করতে হবে। “কেউ নিজে নিজে কাজ করা সমীচীন হবে না। চ্যারিটি কার্যক্রমের অবশ্যই আইনগত কাভারেজ থাকতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হল এটা নিশ্চিত করা যে কেউ যেন আইন অবজ্ঞা করে আরব আমিরাতে চ্যারিটেবল কার্যক্রম পরিচালিত না করে।

এই অর্থ যাতে প্রকৃত অভাবী লোকদের নিকট যায় তা তদারকি করার জন্য আমাদের বিশেষ টিম রয়েছে”। আইএসিএডি বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করছে এবং আল আবাদী দাবী করেন যে, লোকজন ওয়েব সাইটের মাধ্যমে চ্যারিটি কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দিতে পারবে যদি তা আইএসিএডি কর্তৃক নিবন্ধিত হয়। “

এই আইন দুবাই এবং আরব আমিরাতে চ্যারিটেবল এবং মানবতাবাদী কার্যক্রমের বিষয়ে আরো স্ব”ছতা আনয়ন করবে, যেন এটা দাতাদেরকে আরো অধিক দান করতে উৎসাহী করে তোলে যেহেতু এটা তাদের অধিকার সুরক্ষা করে”- তিনি আরো যোগ করে বলেন। আল আবাদী স্কট রিচার্ডের চলমান ঘটনার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।