ডায়াবেটিস আমাদের সমাজে অতি পরিচিত এক শব্দ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এমন পরিবার খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে যেখানে কেউ না কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন নি।
ডায়াবেটিস নারী এবং পুরুষের শরীরের অটোনমিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে পুরুষের কিংবা নারীর দৈহিক চলৎশক্তি নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। তবে এটি ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়। ডায়াবেটিসের ফলে ওজন হ্রাস পায়, পলিরিয়া, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ইত্যাদি দেখা দিতে শুরু করে। তবে ডায়াবেটিসের সাথে সম্পর্কিত অতি সচরাচর দৃষ্ট্য একটি সমস্যা হচ্ছে যৌন অক্ষমতা।
ডায়াবেটিস জনিত যৌন অক্ষমতায় প্রধানত পুরুষের গোপনাঙ্গ মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় দৃঢ় হতে পারেনা। যেসকল পুরুষের ডায়াবেটিস আছে তাদের যৌনঅক্ষমতার সম্ভাবনা – যে সকল পুরুষের ডায়াবেটিস নেই তাদের তুলনায় তিনগুন বেশি। গবেষনায় দেখা গেছে ৩৫ থেকে ৭৫ ভাগ ডায়াবেটিসের পুরুষ রোগী যেকোন মাত্রায় (কম/মাঝারী/প্রকট) যৌন সমস্যার সম্মুখিন হন।
যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে তাহলে রক্তের অতিরিক্ত মাত্রায় সুগার অবশ্যই নিয়ন্ত্রনে রাখতে হাবে, কারন বাড়তি সুগার যৌন উত্তেজনার সাথে সম্পর্কিত রক্তপ্রবাহী নালী এবং স্নায়ু অকেজো করে দেয়। নষ্ট হয়ে যাওয়া রক্তপ্রবাহী নালী নাইট্রিক অক্সাইড অবমুক্তিতে বাঁধা প্রদান করে। নাইট্রিক অক্সাইড এর অভাবে লিঙ্গোত্থান হয়না, কারন এটি রক্তনালীকে constricted করে এবং গোপনাঙ্গ পর্যপ্ত রক্তপ্রবাহ হয়না। বলা বাহুল্য লিঙ্গে রক্তের প্রবাহ জোরদার হলেই পুরুষের লিঙ্গ দৃঢ় দাড়িয়ে থাকে।
উচ্চ রক্তচাপও যৌনঅক্ষমতার সম্ভাবনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চরক্তচাপ সম্মিলিত ভাবে রক্তপ্রবাহী নালী ধ্বংস করায় ভুমিকা রাখার ফলশ্রুতিতে যৌন অক্ষমতার ঝুকি বাড়ায়, লিঙ্গে যথেষ্ট পরিমান রক্তপ্রবাহ অনুপস্থিত থাকা এর প্রধান কারন।
ডায়াবেটিস রোগীর কোলষ্টরলের মাত্রা বেশি হওয়া একটি সাধারন বিষয়। এলডিএল কোলষ্টরল রক্ত নালী করাতে সারসরি প্রভাব ফেলে। উচ্চ মাত্রার কোলষ্টরল স্তর এ ফলপ্রসু। fatty deposit এর এই গঠন লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালন ব্যহত করে।
সত্যি কথা হলো এলোপ্যাথিতে ডায়াবেটিসের কোন চিকিৎসাই নাই। এ্যালপ্যাথি ডাক্তাররা যা করেন অথবা বলা যায় তারা যা পারেন, তা হলো ডায়াবেটিসের তীব্রতা বা উৎপাত কমিয়ে রাখা, নিয়ন্ত্রণে রাখা। ডায়াবেটিস নির্মুল করা বা পুরোপুরি ভালো করার ক্ষমতা এলোপ্যাথিক ঔষধের নাই। তবে ডায়াবেটিস সৃষ্টি করার ক্ষমতা এলোপ্যাথিক ঔষধের আছে।
আপনি যদি ইন্টারনেটে একটু খোঁজাখুঁজি করেন, তবে এমন হাজারো গবেষণা রিপোর্ট এর সন্ধান পাবেন, যাতে নিরপেক্ষ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, টিকা/ ভ্যাকসিন নেওয়ার কারণেই মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। যখন থেকে মানুষকে পাইকারী হারে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, তখন থেকেই পাইকারী হারে ডায়াবেটিস হওয়া শুরু হয়েছে। আগে জন্মের পর থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হতো আর এখন শিশুরা মায়ের পেটে থাকতেই তাদের গর্ভধারীনী মাকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকারান্তর শিশুদেরকেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে মায়ের পেট থেকেই শিশুরা বিষাক্ত দেহ-মন নিয়ে দুনিয়ায় আগমণ করছে। তাই ইদানীং শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।
আপনি যদি ডায়াবেটিসের কারণে অক্ষমতা সমস্যার ভুক্তভুগী হন তাহলে স্বাস্থ্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং আপনার চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস জনিত অক্ষমতা থেকে নিস্তার পেতে পারেন। ডায়াবেটিস জনিত অক্ষমতায় হোমিওপ্যাথি হলো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন সুন্দর একটি চিকিত্সা। তাই এ সমস্যায় আক্রান্ত হলে আপনার হোমিওপ্যাথের সাথে যোগাযোগ করুন এবং চিকিত্সা নিন। আশা করি সুফল পাবেন।





