সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে রাত ৮ টায় বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সূত্র থেকে জানা গেছে, খালেদা-সুষমার এই বৈঠককে বিশেষ আগ্রহ সাথে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ বলছেন এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আবার কেউ বা এটাকে দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিডি২৪লাইভকে জানান, সুষমা স্বরাজ এর আগেও বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং তিনি তখন বেগম জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। তাই সে দেশের প্রতিনিধি আমাদের দেশে আসবেন আর বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এটা খুব স্বাভাবিক একটা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। এর আগেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসেও বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কাজেই এটা আলাদা করে কিছু ভাবার সুযোগ নেই। এই বৈঠক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুষমার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে আগামী নির্বাচন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা হতে পারে কি এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডি২৪লাইভকে বলেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎমাত্র। তিনি বলেন, সুষমা স্বরাজের সাথে আমাদের চেয়ারপারসনের এর আগেও দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সফররত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এটি একটি স্বাভাবিক প্রকিয়া।

এই বৈঠকে আগমী নির্বাচন নিয়ে কথা হবে কি না ঠিক করে বলা যাবে না। তবে আমার মনে হয় রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবন রুহুল কবির রিজভী। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েই আলোচনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে, রাতের এই বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরো উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

এর আগে, ২০১৪ সালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ। তখনও তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন।