‘দেশের গণতন্ত্রে এখন মহাদুর্যোগ চলছে। আইনের শাসন বলে কিছু নেই। বর্তমান সরকার আইনের শাসনকে তছনছ করে দিয়েছে। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকার বলছে।’ সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক বক্তিতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জ ভাষাসৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অলি আহাদের ৫ম ও বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. পিয়াস করিমের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা তিনি এ কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে প্রথম যে চিঠি উপস্থাপন করেছিলেন সেখানে ৭টি ভুল ছিল। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি যখন লন্ডনের উদ্দেশে দেশত্যাগ করলেন সেখানে তিনি যে চিঠি মিডিয়ার সামনে দিলেন সেখানে একটি ভুলও ছিল না। এখান থেকে প্রমাণিত হয় সরকার পরিকল্পিতভাবে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার জন্যই এই অপরাজনীতি করেছে। এভাবে একটি দেশের গণতন্ত্র চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলছেন- প্রধান বিচারপতি দেশে এসে তার ক্ষমতায় আবারও অধিষ্ঠিত হতে পারবেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলছেন- প্রধান বিচারপতি নতুন করে তার জায়গায় বসার কোনো সুযোগ নেই। এখন আমরা কার কথা বিশ্বাস করব।’

এ সময় তিনি ভাষাসৈনিক অলি আহাদ ও প্রখ্যাত সমাজচিন্তক ড. পিয়াস করিমকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘তারা যদি বেঁচে থাকতেন এর প্রতিবাদ অন্যভাবে হতে পারত। কারণ ভাষাসৈনিক অলি আহাদ আজন্ম বিদ্রোহী ছিলেন। তিনি কখনও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করেননি। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি রাজনীতি করতেন। এখন মানুষের অধিকার আদায়ের কথা রাজনীতিবিদরা বলেন না। তারা ক্ষমতায় যাবার জন্য বেশি ব্যস্ত হয়ে থাকেন।’

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের সভাপতি আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভাষাসৈনিক অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।