মওসুমী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে হতে পারে। চলতি বছর আগে-ভাগেই মওসুমী বায়ু চলে এসেছে ঘুর্ণিঝড় মোরার সাথে। আগের বছরগুলোতে মওসুমী বায়ু বাংলাদেশে সর্ব দক্ষিণের আকাশ স্পর্শ করতেই জুনের প্রথম সপ্তাহ চলে গেছে এমন উদাহরণ রয়েছে।
এবার দেশের আট বিভাগের মধ্যে পাঁচ বিভাগেই চলে এসেছে। অবশিষ্ট তিন বিভাগে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রচুর জলীয় বাষ্প মওসুমী বায়ু ছড়িয়ে পড়বে। ফলে আগামী দিনগুলো বৃষ্টির আধিক্য বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য এর মধ্যেই বাংলাদেশে আবহাওয়া বেশ অদ্ভুত আচরণ করছে। একদিকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় দিনের কোনো না কোনো সময় কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছেই। অন্যদিকে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে চলতে তাপ প্রবাহ। যদিও রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে আজ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তথাপি এ দুই বিভাগের সর্বত্র ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ছিল।
আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি জুন মাসে বঙ্গোসাগরে দুটি নিম্নচাপ হতে পারে। তবে এ দুটি নিম্নচাপ থেকে ঝড় হওয়ার আশঙ্কা নেই। সাধারণত: বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সৃষ্ট নিম্নচাপে ঝড় হয় না। এগুলোকে মওসুমী নিম্নচাপ বলা হয়। এসব নিম্নচাপের ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
চলতি জুন মাসে দুটি নিম্নচাপ হলে তা থেকে যে বর্ষণ হবে এর সাথে মওসুমী বায়ুর তাড়নায় বায়ু থেকে ঝরা বৃষ্টি যোগ হলে দেশের মধ্য, উত্তর ও পুর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে কানায় কানায় ভরে যাওয়ার কথা। এর সাথে যদি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমান্তের পাহাড়িয়া অঞ্চলে বৃষ্টিতে সৃষ্ট পানির ঢল এলে উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের নদী, জলাশয়গুলো পানি ধরে রাখতে পারবে না। ফলে নিম্নাঞ্চল ছাপিয়ে পানি চলে আসতে পারে উপরে। এতে ফসলের মাঠ ও বাড়ি-ঘরে উঠে যেতে পারে পানি।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে ঢাকা বিভাগে ৩৪৭ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৪৩২ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৫৮৯ মিলিমিটার, সিলেটে ৬৩৪ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৩০৫ মিলিমিটার, রংপুরে ৩৮৯ মিলিমিটার, খুলনায় ২৯৬ মিলিমিটার এবং বরিশাল ৪৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। দেশের আট বিভাগেই ৩০ দিনের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি হলে অভ্যন্তরীন বৃষ্টিতেই চলতি মাসে নদীগুলো ভরে যেতে পারে।
আবহাওয়া অফিস বলেছে, গত মে মাসে সারা দেশে ১৬ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে।





