প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এমন কর্মসূচীর আলোকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গ্রামগঞ্জের অনেক এলাকা ইতিমধ্যে হয়েছে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত।
উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় চলছে কাজ। এলাকায় এলাকায় চলছে লাইন স্থাপনের জরিপ কাজ, বৈদ্যুদিক খুটি ও সংযোগ লাইন স্থাপনের কাজ। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে সক্রিয় দালাল চক্র।
এসব দালাল চক্রে জড়িত রয়েছে রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধিদের পরোক্ষ সমর্থনপুস্ট এক শ্রেনীর প্রতারকসহ শিক্ষক থেকে ইউপি সদস্য পর্যন্ত। গ্রামীন সাধারন মানুষের অজ্ঞতাকে পুজি করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেয়ার নামে এসব দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়ন বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার কাজ চলছে। আরইবির খরচে এসব এলাকায় লাইন জরিপ, বৈদ্যুতিক লাইনের খুটি ও সংযোগ লাইন স্থাপনের কাজ করবে। আরইবির নীতিমালা অনুযায়ী এ জন্য প্রত্যেক সংযোগ বা মিটার প্রত্যাশীকে ১০০ টাকা ফি প্রদানের মাধ্যমে আনলাইনে আবেদন করতে হবে। জিডি বাবদ ৬০০ এবং সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা জমা দিতে হয়। খাস জমির ডিসিআর প্রাপ্ত জমির মিটার প্রত্যাশীকে দিতে হবে জিডি বাবদ ১৬০০ এবং সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা। আর এসব কাজ করছে আরইবি নিজের উদ্যোগে।
কিন্তু গ্রামীন সাধারন মানুষের অজ্ঞতাকে পুজি করে উপজেলা সব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা দালাল চক্র হাতিয়ে লাইনের স্থাপন জরিপ এবং মাপজোক দলকে ম্যানেজ বাবদ গ্রাহক প্রতি ১৫০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়াও খুটি স্থাপনের সময় ঠিকাদারের পরিবহন খরচের কথা বলে গ্রাহক প্রতি এক হাজার টাকা এবং সংযোগ স্থাপন বাবদ সাড়ে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার কাগজপত্রের ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক খুটি থেকে বাড়ী দুরে হলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ২ থেকে তিন হাজার টাকা।
এমন অভিযোগ উপজেলার নীলগজ্ঞ, ধুলাসর, মহিপুর, বালিয়াতলী এবং ধানখালীর ইউনিয়নের সংযোগ প্রত্যাশী কয়েকশ মানুষের। এসব মানুষের অভিযোগ, ছয় মাস থেকে এক বছর পূর্বে ধাপে ধাপে দালার চক্রের চাহিদানুযায়ী টাকা জমা দিয়ে ওয়ারিং সম্পন্ন করা হলেও এখনো তাদের সংযোগ মিলেনি।
এ বিষয়ে কথা হলে কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের ডিজিএম সুদেব কুমার সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য দ্রুত কাজ চলছে। ঘরে ঘরে এ বিদ্যুৎ পেতে সংযোগ গ্রহীতাকে অফিসিয়াল জমানত ছাড়া বাড়তি টাকা গুনতে হবেনা। এ জন্য আমাদের তরফ থেকে ব্যাপক প্রচারনার অংশ হিসাবে মাইকিং করা হয়েছে। পেস্টার লাগানো হয়েছে। তারপরও যদি কেউ কারো দ্বারা প্রতারিত হয়ে থাকেন আইনের অশ্রয় নিতে পারেন। প্রমানসহ অভিযোগ করলে আমরাও তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিব।





