পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন মাইক্রোফোনের সামনে। এ সময় থামিয়ে দিলেন শামীম ওসমান, বললেন আমার মাথায় হাত রেখে শপথ করেন ডিএনডির পুরো কাজ শেষ করবেন।
যদি না করেন, তাহলে আমার মরা মুখ দেখবেন। তখন মন্ত্রী শপথ নেন। গতকাল রবিবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী নাভানা ভূইয়া সিটি মাঠে অনুষ্ঠিত ডিএনডির মেগা প্রকল্পের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে বলেন, এভাবেই শামীম ওসমান যন্ত্রণা দেন। কখনো বলেছেন কাজ না হলে ভারত চলে যাব। আমাকে মেরে ফেলেন।
বিকাল ৪টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশ একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রধান অতিথি পানিসম্পদমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার আগে তার সামনে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার মাথায় হাত রেখে শপথ করেন ডিএনডির পুরো কাজ আপনি শেষ করবেন। যদি না করেন তাহলে আমার মরা মুখ দেখবেন।’ এ সময় মন্ত্রী তার মাথায় হাত রেখে শপথ করলে লাখো মানুষের করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ডিএনডির দায়িত্ব ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের নেয়ার অনুরোধ করলেও তারা রাজি হননি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যত টাকা লাগবে দেয়া হবে। ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী সেনাবাহিনীর কর্মতৎপরতা দেখতে পাবেন। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৯ সালের মধ্যেই প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বলেন, শামীম ওসমান যেমন একরোখা মানুষ, তেমনি আমিও। ডিএনডিবাসীর জন্য শামীম ওসমান এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তার বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানিসম্পদমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কি যেন ইশারা করেন। সেই ইশারার পরই সব কাজ হয়ে যায়। শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর ইশারা বোঝেন।
শামীম ওসমান বলেন, ‘ডিএনডির প্রায় ৭৫ ভাগ অংশ আমার নির্বাচনী এলাকা। বহু বছর ধরে এখানকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতায় কষ্ট পাচ্ছেন। শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বিষাক্ত বর্জ্যরে দুর্গন্ধে অসহনীয় জীবনযাপন করছেন এখানকার মানুষ। এজেন্ডা না থাকা সত্ত্বেও ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে গত বছরের আগস্টে একনেক সভায় ৫৬০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ডিএনডি প্রকল্পের কাজটি যেন দ্রুত ও ভালোভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সেনাবাহিনীকে কাজ দিতে ডিও লেটার দিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, আজকে মানুষ আমাদের পেছনে আছে বলে আমরা নেতা, মানুষ না থাকলে আমরা কিছুই না। মানুষের জন্য অন্তত কিছু একটা করে যেতে চাই, যেন মৃত্যুর পর আমাদের জন্য মানুষ মনভরে দোয়া করতে পারে। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। প্রয়োজনে পায়ে ধরব, টেবিল ভাঙব যা লাগে করব। টাকা কীভাবে আনতে হয় আমি জানি। আমরা মানুষের কাছে ঋণী হয়ে গেছি। কারণ মানুষ আমাদের ক্ষমতায় এনেছে তাই তাদের জন্য যা যা লাগে তাই করব।





