প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার স্ত্রী সুষমা আপাতত বিদেশ যাচ্ছেন না । তবে তিনি ভিসা করিয়েছেন কেন? ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভিসা করিয়ে রেখেছেন। প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান এসব তথ্য দেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (এসকিউ ৪৪৭) অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সঙ্গে স্ত্রী সুষমা সিনহার যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি যাননি।
তবে স্ত্রী সুষমাকে নিয়েই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় খবর বেরোয় স্ত্রীকে ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়ায় এসকে সিনহাকে একা অস্ট্রেলিয়া যেতে হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান শনিবার বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে স্ত্রী সুষমার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কোনো পূর্বনির্ধারিত সূচি ছিল না। অনেকেই বিষয়টি না জেনে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।’
প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহার ভিসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি (সুষমা সিনহা) ভিসা করাতেই পারেন। ভবিষ্যত প্রয়োজনের কথা চিন্তা করেই হয়তো ভিসা করিয়ে রেখেছেন।’
আনিসুর রহমান জোর দিয়েই বলেন, ‘আপাতত প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা বিদেশ যাচ্ছেন না। এমনকি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেও তার বিদেশ যাওয়ার কোনো তথ্য আমাদের হাতে আসেনি।’
জানা গেছে, বিমানে সিঙ্গাপুর হয়ে শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবেন প্রধান বিচারপতি। সেখানে তিনি মেয়ে সূচনা সিনহার বাসায় উঠবেন। স্বামীকে বিদায় জানাতেই মূলত সুষমা সিনহা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সেন্টারে গিয়ে সস্ত্রীক ভিসার আবেদন করেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। এরপর গত ৭ অক্টোবর হেয়ার রোডের বাসভবনে প্রধান বিচারপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি।
গত ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরে তার ছুটি আরও নয় দিন বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর করা হয়েছে।
এই ছুটি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত, নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য তিনি এক মাসের ছুটি চেয়েছেন।’
ওই সময় প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবাদিকদের দেখান আইনমন্ত্রী। এতে লেখা ছিল, ‘আমি ইতোপূর্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি শারীরিক জটিলতায় ভুগছি।’
তবে দেশ ছাড়ার আগে হেয়ার রোডের বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু, ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ে সরকার, সংসদ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, সামরিক শাসন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে অনেক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।





