মাদারীপুরের কালকিনিতে আ’লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মোঃ কবির মৃধার (৪৫) চোখ উৎপাটন মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এক মানববন্ধন শেষে ইউএনও শেখ হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর পরিবার ও বাশগাড়ি এলাকাবাসির উদ্যোগে উপজেলা সদড় রোডে ঘন্টা ব্যাপী উক্ত কর্মসুচি পালন করা হয়।
মামলা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাশগাড়ি এলাকার ৯নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও পান ব্যবসায়ী মোঃ কবির মৃধা গত ৩ মে পান নিয়ে একটি লঞ্চযোগে ঢাকা রওনা দেন। সে সময় তাকে অপহরন করে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে দুই চোখ উৎপাটন করে ফেলে রাখা হয়। পরে ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ নুরু মৃধা বাদী হয়ে গত ৪ মে কালকিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় বাদল তালুকদার ও মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ ২০ জনকে আসামী করা হয়। তবে আসামীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেন না এবং তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগে দাবি করেন। এদিকে এ মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামী পক্ষরা প্রতিনিয়ত বাদীর পরিবারকে হুমকি প্রদর্শন করে আসছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে কর্মসুচিতে বক্তব্যকালে ভুক্তভোগীর ভাই ইউপি সদস্য খবির মৃধা ও কবীর মৃধার স্ত্রী রেহানা বেগমসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক, ঢাকা পুলিশ হেডকোয়াটার আইজিপি, সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আবেদন করি। সেই মোতাবেক উক্ত দপ্তর হইতে পুলিশ সুপার মাদারীপুর প্রতিবেদন চাইলে ও অদ্য পর্যন্ত পুলিশ কোন প্রতিবেদন পেশ করেনি। আমরা সবাই আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
মামলার বাদী নুরু মৃধা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে বাশগাড়ী ইউপি নির্বাচনের সময় নৌকায় ভোট দেয়। এবং এক সাংবাদিক নির্যাতন মামলার সাক্ষী হওয়ায় কবিরের দুই চোখ উৎপাটন করা হয়েছে।
এ বিষয় মামলার আসামী মোস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, আসামীদের ধরার অব্যহত অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, এ মামলার ঘটনায় আমরা কোন প্রতিবেদনের কাগজ পাইনি। তবে কোন প্রতিবেদনের কাগজ পেলে দিয়ে দেব।





