ময়মনসিংহের ত্রিশালের মোক্ষপুর ইউনিয়নের কোনাবাখাইল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বসতবাড়িসহ দখলকৃত প্রায় আড়াই একর জমি উদ্ধার ও দখলকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বড় মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা শরিফা খাতুন অভিযোগ করেন, তার চাচা আব্দুল মান্নান চানু ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রায় আড়াই একর জমি দখল করে রেখেছে। তাদের অত্যাচারে তিন বছর ধরে ভিটেবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শরিফা খাতুন জানান, মুক্তিযুদ্ধের পর তার পিতা মতিউর রহমান উপজেলার ধানীখোলা পলাশতলী সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। সম্পত্তি দখলের লোভে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের সহোদর ভাই আবদুল মান্নান ওরফে চানু ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার উৎপীড়ন শুরু করে। ১৯৭৯ সালে তার পিতা মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর তাদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে তার মা লুৎফুন্নাহার স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা কেশরগঞ্জে পিত্রালয়ে আশ্রয় নেন।
এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৪ এপ্রিল ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করলে ১৮ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণশুনানি করেন। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হবার পরও গণ শুনানির রায় ঘোষণা করা হয়নি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলে তিনি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। গত ৩ অক্টোবর পুলিশ সুপার বিষয়টি ত্রিশাল থানার ওসিকে আন্তরিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেন। এসময় তার চাচা আব্দুর রাজ্জাক, ফুপু হাসিনা খাতুন, ছোট বোন নাসরিন সুলতানা, ছোট বোনের স্বামী শরীফুল ইসলাম ও ছোট বোনের শ্বশুর গোলাম মোস্তফা মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।
তারা বসতবাড়িসহ বেদখলকৃত প্রায় আড়াই একর জমি উদ্ধার ও জবরদখলকারীদের বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।