দেশের চলমান নানা সঙ্কট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ন্যে এখন চালের বাজারে স্বস্তি নেই। গত মাসে চালের দাম আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেলেও তা আর কমেনি। পাশাপাশি সব ধরনের পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
রাজধানীর মিরপুর, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে পর্বেযক্ষনে দেখা গেছে, কয়েকদিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতগণ বিভিন্ন অজুহাতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন;পক্ষান্তরে বাড়তি মূল্য চোকাতে গিয়ে দিশেহারা ক্রেতারা।
গতকাল বাজারে কালো বেগুন ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা; সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। এছাড়া শিম ১০০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১২০ টাকা; শসা ৭০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৭০ টাকা; পটল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৭০ টাকা; ঝিঙ্গা ৭০ টাকা; চিচিঙ্গা ৭০ টাকা; করল্লা ৬৫ টাকা; কাঁকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০-৬৫ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবু হালিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে,।
এদিকে বিভিন্ন অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকা চলের দাম সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে কেজিতে ১-২ টাকা হারে কমলেও পরে আর কমেনি। সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৭-৪৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে (ভালো মানের) ৬২ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৫৬ টাকা, ভারতীয় বিআর-২৮ ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, নাজিরশাইল ৬৫, হাস্কি ৫৬, পাইজাম চাল ৫২ টাকা, বাসমতি ৬৫-৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬৫-৬৮ টাকা, নরমল মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, ভালো মানের বিআর২৮ কেজিপ্রতি ৫৬-৫৮ টাকা, নরমল বিআর২৮ ৫৪-৫৬ টাকা, মোট স্বর্ণা চাল ৪৮-৫০ টাকা।
অপরদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা যায়,কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ৯০ টাকা; মাষকলাই ১২৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারে কোনো ইলিশের দেখা মেলেনি। ব্রয়লার মুরগি আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।
গত কয়েক মাস থেকে কাঁচামরিচের ঝাঁল ক্রমাগত হারে বাড়ছেই। চালের দাম নিয়ে অস্বস্তি না কাটতেই এবার ক্রমাগত হারে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের কেজিপ্রতি মূল্য এখন ২৫০-২৬০ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৩০-১৪০ টাকা।
মিরপুরের কাঁচাবাজারে বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে জানান, পাইকারি থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ক্ষেত থেকে কাঁচামরিচ তুলতে অসুবিধা হয়। যে কারণে মরিচের সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে বাসায় ফ্রিজ আছে; তাই ভেবেছিলাম পুরো সপ্তাহের জন্য ১ কেজি কাঁচামরিচ নিয়ে যাবো। এখন দেখি গত সপ্তাহের আড়াই কেজি মরিচের যে দাম ছিল; আজ ১ কেজি কাঁচামরিচের সেই দাম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি, পবিত্র আশুরা ও শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে টানা বন্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় যে পরিমাণ কাঁচামরিচ এসেছে তা প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় বেশ কম। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গেছে।
কারওয়ান বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ একেবারেই কম থাকা ও ভারত থেকে আমদানি কয়েক দিন বন্ধ থাকায় দাম এত বেড়ে গেছে। দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ একেবারেই নেই। একে তো বন্যায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বৃষ্টিতে মরিচ তোলা যাচ্ছে না।
অপর একজন বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারে বাড়লে তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পরে। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে।
এখন ২৫০ গ্রাম মরিচ ৬৫ টাকার (কেজি ২৬০ টাকা) নিচে বিক্রি করলে লোকসান দিতে হবে। পাইকারি বাজার থেকে এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছি। এরপর যাতায়াত ভাড়া তো আছেই।





