খুলনা ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা’ এবং ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ’ কমিটির মাসিক সভা অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছে। আজ রবিবার (৮ অ‌ক্টোবর) সকালে খুুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

 খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিন উল আহসান এতে সভাপতিত্ব করেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মর্যাদার সাথে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। কিছু কিছু মসজিদে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার নামে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে নজর দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানান।

খুলনায় সরকারি বেসরকারি মিলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান। কিন্তু প্রায় মিলগুলো বন্ধ এবং কিছু কিছু মিল সময়িকভাবে চালু থাকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থি‌তি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে যাবে বলে সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার জন্য সভাপতির দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়।

নগরীতে অবৈধ যানবাহন ও ফিটনেসবিহীন পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য সেপ্টেম্বর/১৭ মাসে ১২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অভিযানে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীতে যত্রতত্র প্যানা, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ নিবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন মাদক স্পটে ৭২টি আভিযান পরিচালনা করে ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। ৩৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে ৪ জন আসামিকে ১৬ হাজার ২শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ফুটবল টূর্নামেন্ট অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে একটি প্রস্তু‌তি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কেএমপি ও র‌্যাব প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদনে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীর আটটি থানায় গত সেপ্টেম্বর/১৭ মাসে চুরি ৭টি, দ্রুত বিচারে ১টি, ধর্ষণ ৩টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭টি, মাদকদ্রব্য ১২৫টি এবং অন্যান্য ২৮টিসহ মোট ১৮১টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত আগস্ট/১৭ মাসে এ সংখ্যা ছিল ২৩০টি।

জেলার নয়টি থানায় সেপ্টেম্বর/১৭ মাসে চুরি ৪টি, খুন ৪টি, ধর্ষণ ৩টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৮টি, নারী ও শিশু পাচার ১টি ও মাদকদ্রব্য ৬২টি এবং অন্যান্য আইনে ৭৬টিসহ মোট ১৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত আগস্ট/১৭ মাসে এ সংখ্যা ছিল ২১৪টি।