নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড সংলগ্ন বাজারের দোকানগুলো সহ জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক কোমল পানীয়।
এগুলো নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের নজরদারি কিংবা কোন ধরনের অভিযান না থাকায় এগুলো হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নীলফামারী জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নে অবস্থিত উত্তরা ইপিজেডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল বাজারের অধিকাংশ ভোগ্যপণ্য বিক্রয়ের দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ব্রান্ডের যৌন উত্তেজক পানীয়। পৌর শহরের দোকানগুলো ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের বাজারের বিভিন্ন দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে জিনসিন প্লাস, শক্তি প্লাস, টাইটোনিক, হর্স পাওয়ার, পাগলু ফিলিংস, স্পার্ক, মাশরুম পাওয়ার, জিনসিন গুরু, নাইট পাওয়ার, সেভেন হর্স, অ্যাক্টিভ, ডাবল হর্স নামে যৌন উত্তেজক পানীয়। এ ছাড়া এসব দোকানে আরও কয়েক প্রকার কোমল পানীয় বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত ইপিজেডে কাজ করা বিভিন্ন বয়সী বিশাল অংকের পুরুষ শ্রমিকদের টার্গেট করে এসব জীবনঘাতী পানীয় ক্রয়-বিক্রয়ের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ইপিজেডে কাজ শেষে ছুটির পর কিংবা সন্ধ্যার পর নানা বয়সী পুরুষ ওই যৌন উত্তেজক কোমল পানীয় কিনে থাকে। অনেক দোকানী এসব পানীয় প্রকাশ্যেই সাজিয়ে রেখে বিক্রি করছেন আবার কেউ কেউ একটু কৌশলী হয়ে বিভিন্ন ব্রান্ডের বিস্কুটের কার্টনে লুকিয়ে রেখে বিক্রি করছেন। চাওয়া মাত্রই দোকানি কাগজে মুড়িয়ে ক্রেতাকে তা দিয়ে দেন। এগুলোর দাম নেয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
প্রশাসনের কোন নজরদারী না থাকায় অবলীলায় চলছে এসব কর্মকান্ড।
আরো অবাক করার বিষয় হলো, বাজারে বর্তমানে যেসব পানীয় বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের বোতলের গায়ে ‘হারবাল সিরাপ’ লেখা রয়েছে। ৮০ টাকায় একটি পানীয় বিক্রি করলে লাভের অংশ থাকে ৪০টাকা। অধিক লাভ পেয়ে প্রায় সকল দোকানী কম বেশী এ সব পানীয় রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানি জানান, এসব পানীয়তে বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল এবং বিভিন্ন প্রকারের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের মিশ্রন থাকায় এগুলো পান করলে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। তবে ওই পানীয় শরীরের জন্য ভালো না বুঝতে পেরেও অনেকে কেনেন বলে জানান তারা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব পানীয় কিনতে আসা ক্রেতার সংখ্যা বেশী হয়।
তারা আরো জানান, অনেকে এটা যৌনশক্তি বৃদ্ধি করার জন্যও পান করেন। সাধারণত ইপিজেডের যে সমস্ত শ্রমিক অল্প বয়সে বিয়ে করেছে তাদের সংখ্যাটা এসব কেনার তালিকায় সবচেয়ে বেশী।
এসব পানীয় কিভাবে পান জানতে চাইলে তারা বলেন, নীলফামারী, সৈয়দপুর ও ডোমারে গড়ে ওঠা এসব পানীয়ের বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধি ও পাইকারী বিক্রেতারা তাদেরকে এসব সরবরাহ করে।
এগুলোর ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে নীলফামারী সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মনিরুজ্জামান জানান, বাজারে বিক্রি হওয়া এসব যৌন উত্তেজক কোমল পানীয়তে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল ও যৌন উত্তেজক দ্রব্য রয়েছে। এসব পান করলে সাময়িক যৌন উত্তেজনা আসলেও এগুলোর সেবন চিরস্থায়ীভোবে যৌনশক্তি কেড়ে নেয়। এগুলোর দীর্ঘ সেবন কিডনী নষ্ট করা সহ আলসার কিংবা হৃদরোগও আনে। এবং মানসিক বিষন্নতা ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে এর ব্যবহারকারী।
নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। এগুলো বন্ধে পুলিশকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
আমাদের কথা, বোতলের গায়ে ১৮প্লাস বা শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য লেখা থাকলেও এসব যৌন উত্তেজক পানীয় উঠতি বয়সী তরুনরা সহ বিবাহিত যুবকরাও পান করছে হরহামেশা। এতে করে ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছে যুব সমাজ। অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, এসব যৌন উত্তেজক পানীয় নিষিদ্ধ ও বাজারজাত বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে। এমনটাই আশা নীলফামারীর সচেতন মহলের।





