২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নয়া নিয়ম চালু করেছে আইসিসি। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক।ক্রিকেট কি কেবলই ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে?

বর্তমান যুগে যে ভাবে ভারী ব্য়াটের দৌলতে মিস হিটেও ছক্কা হয়ে যাচ্ছে তাতে এ প্রশ্নটা মোটেই অমূলক নয়। পাশাপাশি, নিয়মও যে ভাবে দিনে দিনে ব্যাটসম্যানদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করছে, তাতে খেলাটার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ক্রীড়ামহল।

এর মধ্যেই আরও একটা নতুন নিয়ম নিয়ে এল আইসিসি। ‘ফেক ফিল্ডিং’ করলে জরিমানা হবে ফিল্ডিং দলের। পাঁচটি অতিরিক্ত রান যুক্ত হবে ব্যাটিং টিমের স্কোরে।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নয়া নিয়ম চালু করেছে আইসিসি। আর নিয়ম চালু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কুইন্সল্যান্ডের ফিল্ডার মারনাস লাবুসচাগনে ‘দোযী’ সাব্যস্ত হন ‘ফেক ফিল্ডিং’ করার জন্য।
আইসিসির এই নয়া নিয়মকে ঘিরে এর মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর আইসিসিকে একহাত নিয়ে তাঁর টুইটারে লেখেন এই নিয়মকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত আইসিসির। সাম্প্রতিক অতীতে এমন বিচিত্র আইন আর আনেনি আইসিসি, বলেই মনে করছেন সঞ্জয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ফিল্ডার যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে কথার মাধ্যমে বা কোনও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ব্যাটসম্যানকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন, তা হলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য় হবে।
আর এই জায়গাতেই রয়েছে বিতর্কের সূত্র। কোনটা ‘ইচ্ছাকৃত’, কোনটা নয়, তা বিচার করা হবে কী ভাবে। সঞ্জয় ব্যঙ্গ করে আর একটি টুইটে লিখেছেন, তা হলে ব্যাটসম্যান যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে ফিল্ডিং টিমকে বিভ্রান্ত করেন, তা হলে কি ব্যাটিং টিমের ৫ রান কেটে নেওয়া হবে? তাঁর মতে, এটা চিটিং নয়। এটা এক ধরনের কৌশল। আর তাঁর সেই কথা প্রসঙ্গেই তিনি উল্লেখ করেছেন ধোনির কথা। ধোনিও ফিল্ডিং করার সময়ে অনেক সময়েই উইকেটে বল ছোড়ার নকল ভঙ্গি করেন। প্রশ্ন উঠছে, সে ক্ষেত্রে ধোনির ওই আচরণের জন্য কি জরিমানা হবে ভারতের।

এখন দেখার, আইসিসি তাদের নয়া নিয়ম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করে কি না। তবে শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টি২০ ম্যাচে এমন কোনও কৌশল যদি ধোনি প্রয়োগ করেন, তা হলে অবশ্য ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যেহেতু এই সিরিজ নতুন আইন চালু হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে, তাই ওই নিয়মের কোনও প্রভাব এই সিরিজে পড়বে না।