চলতি মাসের শেষে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত সফরে আসছেন প্রিন্স চার্লস। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এই উত্তরাধিকারী তার সফর তালিকা থেকে মায়ানমারকে বাদ দিয়েছেন। মায়ানমার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দেশটির রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ ওঠেছে।

গত মাসে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে প্রিন্স চার্লসকে মায়ানমারেও সরকারি সফরের প্রস্তাব করা হয় এবং তার সহকারীরাও স্বীকার করেন যে, সফরসূচির অংশ হিসাবে মায়ানমার সফর বিবেচিত হয়েছে।

কিন্তু বুধবার জারি করা চূড়ান্ত সূচি থেকে মায়ানমারকে বাদ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিন্স চার্লস এসব দেশ সফর করবেন।

সফরের শুরুতে চার্লস এবং তার স্ত্রী ক্যামিলা প্রথমে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া যাবেন এবং তারপর ভারত সফর করবেন। ভারত সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসের ডেপুটি প্রধান ফিলিপ ম্যালোন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভেবেছি এবং সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

কেন মায়ানমারকে বাদ দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান ম্যালোন ও রাজকীয় কর্মকর্তারা।

 

উল্লেখ্য, মায়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। নিহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা।

প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর কার্যালয় জানায়, গত এক মাসে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সহিংসতার কারণে গত মাসে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে স্থগিত করে ব্রিটেন এবং এই ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’র ডিরেক্টর মার্ক ফারম্যানর বলেন, ‘প্রিন্স চার্লসের মত মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির কোনো দেশ সফর করাকে একটি পুরস্কার হিসেবে দেখা হয় এবং তিনি মায়ানমার সফর করলে সেটা হবে- বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী সরকার ও সামরিক বাহিনীকে বৈধতা প্রদান করবে।’

আগামী ৩১ অক্টোবর সিঙ্গাপুর সফর দিয়ে শুরু হবে চার্লস ও ক্যামিলার সফর। এরপরে তারা মালয়েশিয়া যাবেন। সেখানে তারা ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ৬০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপন করবেন। ভারত সফরের মাধ্যমে ১১ দিনের এই সফরের ইতি টানবেন।