সরকার নিজেদের অস্তিত রক্ষার জন্য ভীত হয়ে প্রধান বিচারপতিকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকালে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এ অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পরই সরকার গুম-খুন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদেরকে কোনঠাসা করে রাখছে।

তিনি বলেন, সুবিচার পাওয়ার সর্বশেষ ভরসা বিচার বিভাগও এখন স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সরকার এখন দেশে বাকশাল কায়েমের অপচেষ্টায় রত আছে।

দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পর সর্বশেষ ভরসাস্থল উচ্চ আদালতও আজ স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমনের শিকারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সর্বসম্মত রায় দেয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ আদালত এবং তার সম্মানিত বিচারপতিগণকে সরকার প্রধান থেকে সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও সরকারী দল ও জোটের নেতাকর্মীরা অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও কুৎসিত ভাষায় সমালোচনা করে চলেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদে যে ভাষায় সর্বোচ্চ আদালত ও তার বিচারপতিগণের সমালোচনা করা হয়েছে তা শুধু অভূতপূর্ব নয়-অস্বাভাবিকও।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা রিভিউ করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকার দেশের প্রবীণ বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার যে নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার বিরুদ্ধে দেশের আইনজীবী সমাজের পাশাপাশি সচেতন জনগণ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি মাত্র ক’দিন আগে জাপান ও কানাডা সফর করে এসেছেন তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব দেশে উন্নত চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে কোন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে দেশবাসী জানে না। এমনকি গত পরশু তিনি সুপ্রীম কোর্টে তাঁর কার্যালয়ে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফাইল সই করেছেন।

নিয়মিত প্রথা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকল বিচারপতিকে নিয়ে আইনজীবীদের সাথে পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। অথচ মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী ও এটর্নি জেনারেল মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে, তিনি নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়েছেন কিন্তু গত পরশু সন্ধ্যায় তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ প্রার্থী সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তাঁর পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমি সুস্থ আছি কিন্তু কথা বলতে পারবো না’।এসব কিছু থেকে প্রমানিত হয় যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাঁকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকারের এহেন আক্রোশমূলক, ঘৃন্য আচরণের তীব্র নিন্দা এবং শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অনুগত করার সরকারী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।