নেইমার, এদিনসন কাভানি আর কিলিয়ান এমবাপে একসঙ্গে ছন্দে থাকলে কি হয় টের পেল বোর্দো। আক্রমণভাগের এই তিন তারকার দারুণ নৈপুণ্যে লিগ ওয়ানে বিশাল জয় পেয়েছে পিএসজি।

শনিবার নিজেদের মাঠে বোর্দোকে ৬-২ গোলে হারিয়েছে উনাই এমেরির দল।ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন নেইমার। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁকানো শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক।

সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয় আক্রমণভাগের তিন তারকার চমৎকার বোঝাপড়ায়। কিলিয়ান এমবাপের ফ্লিকে বল পেয়ে ডি-বক্সে বাড়িয়েছিলেন নেইমার। কাভানি ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন। লিগ ওয়ানে উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকারের গোল হলো আটটি।

২১তম মিনিটে বাঁ দিক স্প্যানিশ ডিফেন্ডার ইউরির ক্রসে জোরালো শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন আরেক ডিফেন্ডার তমাস মুনিয়ে।

দশ মিনিট পর ইউনুসে ব্যবধান কমালেও খেলায় ফিরতে পারেনি বোর্দা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও দুই গোল করে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় স্বাগতিকরা।

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ওতাভিওর হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পেলে ফ্রি-কিকের মতো এগিয়ে আসেন নেইমারই। বাঁ দিক দিয়ে গড়ানো স্পট কিকে ৪০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

সতীর্থকে প্রথমে অভিন্দন জানাতে এগিয়ে আসেন কাভানি। এই পেনাল্টি নেওয়া নিয়েই দুই ফরোয়ার্ডের মতভেদ দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল কোচ উনাই এমেরির।

লিগ ওয়ানে এটি নেইমারের ষষ্ঠ গোল।

বিরতির আগে দারুণ গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান ইউলিয়ান ড্রাক্সলার। প্রতিপক্ষের পাস ধরে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে ডানে এমবাপেকে দিয়ে তিনি ঢুকেছিলেন ডি-বক্সে। ফিরতি ক্রস বাঁ পায়ের নিখুঁত ভলিতে জালে পাঠান জার্মান এই উইঙ্গার।

৫৮তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম ওঠে ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপেরও। নিজেদের অর্ধে আবারও প্রতিপক্ষের পাস ধরে এগিয়ে এসে ডি-বক্সে বল বাড়ান ডাক্সলার। কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন মোনাকো থেকে ধারে আসা এমবাপে।

৭৯তম মিনিটে ডি-বক্স থেকে ভলিতে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু বল পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় হ্যাটট্রিক হয়নি ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডর।

ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান ম্যালকম।

লিগে আট ম্যাচে সপ্তম জয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি। উনাই এমেরির দল সব প্রতিযোগিতা মিলে ১০ ম্যাচ অপরাজিত রইলো। ৩ পয়েন্ট পেছনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোনাকো।