কেশভ মহারাজের দিনের শেষ বলটাকে বিলাশ এক ছয়ে পরিণত করলেন তামিম ইকবাল। তাতে প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের কোন বার্তা থাকলো কি? কে জানে। ৩ উইকেটে ১২৭ রান নিয়ে পচেফস্ট্রুম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো বাংলাদেশ। এখনো টাইগাররা পিছিয়ে ৩৬৯ রানে।

সবমিলিয়ে খেলা হলো ছয়টি সেশন। কোন সেশনেই টাইগারদের আধিপত্য নেই। প্রথম পাঁচ সেশন ব্যাট করে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলোঅন এড়াতে এখনো ১৬৯ রান চাই বাংলাদেশের। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন বড় কোন জুটি। মুমিনুল হক ২৮ ও তামিম ইকবাল ২২ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন। চতুর্থ উইকেটে তারা যোগ করেছেন ২৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা আগের চার টেস্টের কোনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার গল্পটা বদলাবে তো? মাত্র দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হলো। টাইগাররা প্রতিরোধের গল্প লিখতে পারলে তো গল্পটা বদলানো অসম্ভব নয়।

কিন্তু প্রথম দুই দিনের প্রতিটি পটেই তো টাইগারদের ব্যর্থতার গল্প। আগের দিন ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে সাব্বির রহমান বলে গিয়েছিলেন, এই উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ১০০০ রানও করতে পারে। সাব্বির যতোটা বলেছিলেন অতটা হয়নি। ১ উইকেটে ২৯৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে সাব্বিরের ওই রানের চেয়ে ৫০৪ রান দূরেই ব্যাটিং ছেড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সাব্বির তো ব্যাটিং স্বর্গ উইকেট বোঝাতেই বলেছিলেন অমন কথা। অথচ সেই ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে টাইগরার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে রান কোথায়। দলীয় ১৬ রানে নেই ইমরুল কায়েস, ৩৬ রানে লিটন দাস ও ১০৩ রানের মাথায় মুশফিকুর রহীম। সামনে তো ঘোর দুঃস্বপ্নের বার্তা।
শুক্রবার ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ওই রানেই যে তারা ইনিংস ঘোষণা করবে এটা ভাবেনি বাংলাদেশ দলও। ভাবলে কি আর তামিম চা বিরতির আগে ৪৯ মিনিট মাঠের বাইরে থাকেন! নাকি তামিমের এই বাইরে থাকা দেখেই একটা কৌশল নিলেন ফ্যাফ দু প্লেসি। বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে নামালেন। অথচ তামিম পারলেন না ওপেন করতে! ক্যারিয়ারে ৯৮টি টেস্ট ইনিংসে কখনো ওপেন করেননি তামিম, এমন নজির নেই। সেই তামিমকে নামতে হলো পাঁচ নম্বরে। অতিতে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গেও একবার এমন করেছিলেন দু প্লেসি। ওপেনর করতে নামলেও বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হতো তামিমকে। টাইগার সহ-অধিনায়কের ব্যাটের দিকেই যে তাকিয়ে থাকে সবাই। আর এখন সময়ের দাবির সঙ্গে ফ্যাফ দু প্লেসির কৌশলকে ভুল প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ তামিমের। ইনিংসের শেষ বলটাকে যেভাবে ছয় হাকালেন তিনি, তাতে সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার বার্তাই কি জানান দিলেন?
বিস্তারিত আসছে...