একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে চলছে নানা মুখী গুঞ্জন। কেউ বলছেন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে আবার কেউ বা বলছেন সহায়ক সরকারের অধীনে এই নির্বাচন হতে হবে। যার ফলে দেশের রাজনীতিতে আবারো একটা সংকট দেখা দিয়েছে।

চলমান এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বিএনপির সাথে শুধু রোহিঙ্গ নয়, কোনো বিষয়ে ঐক্য হবে না। কেননা তারা খুনি, সন্ত্রাসীদের দল।

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন।জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বেগম জিয়া। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতির সামনে সহায়ক সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

এ বিষয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডি২৪লাইভকে বলেন, চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে আমাদের চেয়ারপারসনের লন্ডন গিয়েছেন। আমরা আশা করছি তিনি খুব শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন। তখন আমাদের প্রধান কাজ হলো জাতির সামনে সহায়ক সরকারের রুপরেখা উপস্থাপন করা।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে দেশে গ্রহন যোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে সেটা ফয়সালা করার জন্যেই সহায়ক সরকারের ধারণা জাতির সামনে উপস্থাপন করা দরকার। এর প্রেক্ষিতে সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালা করে তাহলে ভালো। আর যদি গ্রহণ না করে তখন আমরা বিবেচনা করবো আন্দোলনের জন্য ২০দল বা অন্যান্য দলের সাথে আলোচনা করব এবং তখনই এই সংকট নিরসনে আমরা একটা পথ পেয়ে যাব।

দলের একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, সাংগঠনিক শক্তি আর ক্ষয় করবে না দলটি। কেননা, আন্দোলনের নামে শক্তি ক্ষয় নিষ্প্রয়োজন। তার কারণ হলো বর্তমানে মাঠে ভোটের যে শক্তি রয়েছে দলটির সেটাই এই সরকারের জন্য বড় আতঙ্কের বিষয়। তাই আন্দোলনের নামে কোনো ঝামেলায় না গিয়ে নির্বাচনের তফসিল পর্যন্ত আরও শক্তি সঞ্চয় করার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আর যদি আন্দোলনের প্রয়োজনই হয় তাহলে সেটা যাতে সফল হয় সে দিকটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তারা মনে করেন, মুখে যাই কিছু বলুক না কেন সরকার কখনই চাইবে না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কেননা খালেদা জিয়া নির্বাচনে এলে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ের শঙ্কাই বেশি। তাছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে একতরফা বা বড় ধরনের কারচুপিও করতে পারবে না। তাই সরকারকে চাপে রেখে কীভাবে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানো যায় বিএনপি সেদিকটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সেই সংগ্রামের পক্ষে আমরা আছি। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণতন্ত্রের লক্ষ্যে আমার সব কিছুই করে যেতে চাই। আমাগীতে আমাদের নেত্রী যেই নিদের্শনা দিবেন আমরা তাই পালন করার চেষ্টা করব। তার নির্দেশের বাইরে আমরা কোনো কিছু করব না।

সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা না মানা হয় তাহলে ২০ দলের করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহাসিক দল। কিছুদিন আগে তাদের সভানেত্রী বলেছেন বিএনপির সাথে কোনো ঐক্য হবে না। এতো বড় একটা রাজনৈতিক দলের সভানেত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আমরা কখনোই আশা করিনি। বিএনপির সাথে যদি ঐক্য না করে তাহলে কাদের সাথে ঐক্য করবে যারা কি না বঙ্গবন্ধুর পিঠের চামড়া তুলে জুতা বানাতে চেয়েছিলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর গলায় গামছা পেচিয়ে টানতে চেয়েছিলেন তাদের সাথেই সরকার ঐক্য করবেন! বিএনপির সাথে কেন ঐক্য করবেন? আজ যদি বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতেন তাহলে কি এ ধরনের কথা বলতে পারতেন?

প্রধানমন্ত্রী বলছেন, বিএনপির সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা নয় অপরদিকে বেগম জিয়া দেশে ফিরেই সহায়ক সরকারের রুপরেখার প্রস্তাবনা করবেন এমন পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোট হিসাবে আপনাদের করণীয় কি জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা বিডি২৪লাইভকে বলেন, এ বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক না হলে তো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তার রাজনৈতিক বক্তব্য। আমার মনে হয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আগামীতে গণতান্ত্রিক শক্তি গুলোর মধ্যে একটি বৈঠক হতেই হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দুই জোটেরই (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) ছাড় দিতে হবে এবং একটা জায়গায় আসতে পারে কিন্তু কেউ যদি মনে করে একেবারেই কোনো আলোচনায় বসবে না। তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য সুখ কর হবে না। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের স্বার্থে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে বসবেন এবং একটি সমঝোতার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটা না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই অনুযায়ী কাজ করবো। আমরা খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।