দীর্ঘ ৯ বছর পর দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে সিরিজ খেলার অপূর্নতা পূর্ন হচ্ছে আগামীকাল । টেস্ট ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিরিজটি। সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ আগামীকাল ২৮ তারিখ আরম্ভ হবে।
আর সফরকারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই সফরের সবগুলো ম্যাচ দর্শকরা সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে দেশের মোট তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলে।
চ্যানেল গুলো হল, নিয়মিত বাংলাদেশের খেলা সম্প্রচার করা গাজী টিভি। গাজী টিভির সাথে অন্য দুটি চ্যানেল হল মাছরাঙ্গা
টেলিভিশন ও বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি।
বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু আইসিসির নতুন নিয়ম
ফুটবল মাঠে খারাপ আচরণ করলে কিংবা রেফারির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে অথবা নিয়ম ভাঙলে সতর্কতা স্বরূপ দেখানো হয় হলুদ কার্ড। দোষ বেশি হলে লাল কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু ক্রিকেটের মাঠে সেই নিয়ম কখনই ছিল না। পরে দোষ বিচার করে শাস্তির নিদান দিতেন ম্যাচ রেফারি। কিন্তু এবার থেকে আম্পায়ারদের হাতেও তুলে দেওয়া হল সেই একই ক্ষমতা।
ক্রিকেটের বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। আইসিসি জানিয়েছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বা তার পরে শুরু হওয়া সিরিজে কার্যকর হবে নয়া নিয়ম। মানে দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ থেকেই শুরু হচ্ছে আইসিসির বহুল আলোচিত এ নিয়ম।
মাঠের ভিতর কোনও খেলোয়াড়, আম্পায়ার বা অন্য ক্রিকেটারকে হুমকি দিলে, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করলে বা কোনও প্রকার হিংসাত্মক অঙ্গভঙ্গি করলে, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে লেভেল ৪-এর আওতায় সঙ্গে সঙ্গে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছেন আম্পায়াররা। তবে লেভেল ১ থেকে ৩ পর্যন্ত আগের মতোই আইসিসি কোড অফ কন্ডাক্ট অনুযায়ী অভিযুক্ত খেলোয়াড়ের বিচার হবে।
কয়েকমাস আগেই অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটি বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশেই সিলমোহর দেয় ডেভিড রিচার্ডসনের নেত্ত্বৃাধীন আইসিসি চিফ এগজিকিউটিভস কমিটি। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরেই আইসিসির বার্ষিক বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই ক্রিকেট কমিটির সুপারিশগুলি নিয়ে পর্যালোচনার পর সেগুলিতে সিলমোহর পড়ে।
নতুন নিয়মের মধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন রয়েছে। এক, এলবিডব্লিউ আউটের ক্ষেত্রে ডিআরএস-এর সময় তৃতীয় আম্পায়ার যদি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন, তাহলে আবেদনকারী দলের রিভিউটি নষ্ট হবে না। দুই, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ম্যাচে চালু হবে ডিআরএস। অন্যদিকে, টেস্টের ক্ষেত্রে কোনও দলের দুটি রিভিউই খারিজ হয়ে গেলে ইনিংসের ৮০ ওভারের পর আর কোনও রিভিউ পাওয়া যাবে না।
তিন, এবার থেকে ইচ্ছেমতো ব্যাট ব্যবহার করা যাবে না। কতটা পুরু হতে পারে একটি ব্যাট, তার মাপও ধার্য করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অপরিবর্তিত থাকলেও কানাগুলি ৪০ মিলিমিটারের বেশি পুরু হতে পারবে না। শুধু তাই নয়, ব্যাটের পুরুভাব ৬৭ মিলিমিটারের বেশি হতে পারবে না। ব্যাট ঠিক আছে কিনা তা দেখবেন আম্পায়াররা। চার, রান আউটের ক্ষেত্রেও আসছে নতুন নিয়ম। কোনও ব্যাটসম্যান যদি ব্যাট মাটিতে ঠেকানোর পর ব্যাটটি লাফিয়ে ওঠে, আর সেসময় উইকেট ভাঙা হয়, সেক্ষেত্রে ওই ব্যাটসম্যান আউট হবেন না।
সিরিজ ড্র করলেই অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ
পচেফস্ট্রমে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজটি অন্তত ড্র করতে পারলেই আইসিসি টেস্ট র্যাংকিং-এ প্রথমবারের মতো অষ্টম স্থানে ওঠার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ৭৪ রেটিং নিয়ে নবমস্থানে রয়েছে টাইগাররা। ৭৫ রেটিং নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ক্যারিবীয়দের টপকাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২ রেটিং। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করতে পারলে ৭৮ রেটিং থাকবে বাংলাদেশের ঝুলিতে। সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আইসিসি টেস্ট র্যাংকিং-এ অষ্টম স্থানে উঠে যাবে টাইগাররা।
তবে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারলে ২ রেটিং হারাবে বাংলাদেশ। আর সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারলে আগের রেটিং-ই ঝুলিতে রাখতে সক্ষম হবে টাইগাররা। অন্যদিকে সিরিজ জিতলে বা ড্র করলেও র্যাংকিং-এ দ্বিতীয় স্থানে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১০ রেটিং নিয়ে বর্তমানে র্যাংকিং-এ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রোটিয়ারা। তাই সিরিজ জিতলে বা ড্র করলে অবস্থানে কোন পরিবর্তন হবে না তাদের। কিন্তু সিরিজ হারলেই তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সুযোগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যাবে বর্তমানে ১০৫ রেটিং নিয়ে তৃতীয়স্থানে থাকা ইংল্যান্ড।
টেস্ট সিরিজ শেষে র্যাংকিং-এ বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানের চিত্র :
দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ ব্যবধানে জিতলে : দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং হবে ১১১; বাংলাদেশের রেটিং হবে ৭২।
দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে জিতলে : দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং হবে ১০৯; বাংলাদেশের রেটিং হবে ৭৪।
সিরিজ ১-১ বা ০-০ ড্র হলে : দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং হবে ১০৬; বাংলাদেশের রেটিং হবে ৭৮।
বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে জিতলে : বাংলাদেশের রেটিং হবে ৮৩; দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং হবে ১০৩।
বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জিতলে : বাংলাদেশের রেটিং হবে ৮৫; দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং হবে ১০২।





