পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশের ঘর ভাঙ্গার হিরিক পরেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের সড়ক ও জনপথ বিভাগের আমতলীর শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার পথ। এ মহাসড়কের দুই পাশে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে। গত বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্ব-উদ্যোগে তিন দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে নেয়ার জন্য মাইকিং করে।
এ মাইকিং শুনে স্থানীয় লোকজন গত রবিবার থেকে স্ব-উদ্যোগে তাদের স্থাপনা ভেঙ্গে নিতে শুরু করেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের অধিগ্রহন করা ৭০ থেকে ১২০ ফুট জমির সীমানায় লাল চিহ্ন দিয়ে দিয়েছে। ওই চিহ্ন পর্যন্ত যেসব স্থাপনা রয়েছে তা তারা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।
আজ বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শাখারিয়া, মহিষকাটা, চুনাখালী, সাহেববাড়ী, আমড়াগাছিয়া, ডাক্তারবাড়ী, ঘটখালী, একে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা, বাঁধঘাট চৌরাস্তা, হাসপাতাল সড়ক, মানিকঝুড়ি, খুড়িয়ার খেয়াঘাট, আকনবাড়ী, ফকিরবাড়ী, খলিয়ান, কল্যাণপুর ও বান্দ্রা মহাসড়কের দুই পাশের স্থাপনা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। আমতলী চৌরাস্তা সংলগ্ন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম মৃধা, শাহজাহান আকন, হানিফ মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য আলহাজ্ব নেছার উদ্দিন, বিভূতি ঠাকুর, মিজানুর রহমান ও সামসু উদ্দিন চৌকিদারসহ প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে।
আমতলী চৌরাস্তার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোন নোটিশ দেয়নি। মাইকিং শুনে আমি ঘর ভেঙ্গে ফেলেছি। শাখারিয়ার মুদি দোকানদার রিপন হাওলাদার জানান সড়কের অধিগ্রহন করা জমি নিয়ে যাওয়ায় আমার আর ব্যবসা করারমত কোন জমি নেই।
মহিষকাটা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ও মোঃ সোহরাব মিয়া বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহনকৃত ৮০ ফুট জমির ৭০ ফুটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। খুড়িয়ার খেয়াঘাটের সামসুল আলম বলেন, নিজ উদ্যোগে ঘর ভেঙ্গে নিয়েছি। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহনকৃত জমি উদ্ধারের জন্য একাধিকবার অবৈধ দখলদারদের নোটিশ করেছি কিন্তু তারা নোটিশের কোন গুরুত্ব দেয়নি। এবার আর নোটিশ দেয়া হয়নি, মাইকিং করে তিন দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৭০ থেকে ১২০ ফুট জমি অধিগ্রহন করা আছে। ওই জমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।





