গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনা ও মগদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।
আতিথেয়তা প্রিয় বাঙলী খুব সহজেই এসব অসহায় রোহিঙ্গাদের আপন করে নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও নিপীড়নের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশাল এই জনগোষ্ঠিকে নিরলসভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত এসব রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন কোন না কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি অথবা প্রবাসী বাঙালী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজির হচ্ছেন। অসহায় শিশু ও নারীদের মুখে একমুঠো অন্য তুলে দিচ্ছেন তারা। খাবার পানি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র সবই রয়েছে রোহিঙ্গাদের দেয়া ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে।
নতুন রোহিঙ্গাদের আগমনে এসব সুযোগ-সুবিধার আংশিক হলেও পাচ্ছেন পুরনো রোহিঙ্গারা। নতুনদের আগমনে পুরনোরা আবার নতুন করে নিজ দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। তারা ভাবছে,এবার হয়তো তারা দেশে (মিয়ানমার) যে ভিটে মাটি ফেলে এসেছেন,সেখানে আবার ফিরে যেতে পারবেন। তাই নতুনদের আগমনে তারা খবুই খুশি। পুরনো ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
পুরনো রোহিঙ্গারা আরও জানান, নতুরা আসায় আমরা খুশি হয়েছি। মগেরা যেভাবে সেখানে আমাদের উপর নির্যাতন চালায়, তার চেয়ে এই পাহাড়ে না খেয়ে থাকাও অনেক ভালো। তাছাড়া নতুনদের মধ্যে আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজনও এসেছে।
কুতুপালং পুরাতন ক্যাম্পে প্রায় ৮ বছর ধরে থাকছেন আবুল হোসেন। তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি আমার ৬ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে গত ৮ বছর ধরে কুতুপালংয়ের এই পরনো ক্যাম্পে রয়েছি। আমরা এখানে ভালোই আছি। মানুষের কাজ করে খাই। নতুনরা আসায় আমরা খুশি। ওখানে যে ভয়াবহ নির্যাতন হয় তার চেয়ে এখানে অনেক ভালো। নতুনরা আসায় এবার হয়তো আমাদের জন্য কোন একটা ব্যবস্থা হবে। আমরা আমাদের দেশে ফিরে যেতে চাই। এবার হয়তো আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাবো।মিয়ানমারে আমাদের ঘরবাড়ি রয়েছে।সম্পত্তি রয়েছে। আমরা সেখানে ফিরে যেতে চাই।





