রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আর্তনাতে ভারী উখিয়ার কুতুপালংয়ের আকাশ। রাস্তার দু’পাশে হাত পেতে ত্রাণের আশায় বসে রয়েছে শিশু, নারী, পুরুষসহ লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থী। চোখে মুখে আতঙ্ক।
গাড়ি দেখলেই ছুটে আসছে হাজারও রোহিঙ্গা। কেউ ত্রাণ পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। কেউ আবার সারাদিন রাস্তার পাশেই বসে রয়েছে একটু খাবারের আশায়।
মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলে আসা চার সন্তানের জননী সবিতার (৩৪) সাথে কথা হয় বিডি২৪লাইভ’র আলাপচারিতায় সবিতা জানিয়েছেন মিয়ানমার মিলিটারিরা কি নির্মমভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে ওপারে।
সবিতা বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের ইজ্জত নিচ্ছে মিলিটারিরা। শিশুদেরকে নির্মম ভাবে খুন করছে। আমার স্বামীকে ওরা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছি।
সবিতা বলেন, আমার চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে নৌকা করে এসেছি। আমার কাছে টাকা, জামা-কাপড়, খাবার কিছুই নেই। সবিতা তার ছেলে-মেয়েদের মুখে একটু খাবার তুলে দেওয়ার আকুতি জানান এ প্রতিবেদকের কাছে। আমি সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
সবিতা আরও বলেন, একদিন হঠাৎ করে রাতের আধারে বাড়ি-ঘরে হামলা চালাতে শুরু করে মিলিটারিরা। সাথে লুটপাট। সেই দিন দেখেছি সেনাদের তাণ্ডব ও পাশবিকতা। চোখের সামনেই স্বামী, শশুর-শাশুড়িকে পুড়িয়ে দিয়েছে। সেই স্মৃতি এখনও কষ্ট দেয়। পাশের আরেকটি ঘরেই ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে হাত পা কেটে ফেলেছে।
বাংলাদেশে এসে এই মানবেতর জীবন-যাপনই এখন আমাদের কাছে রাজকীয়। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাস করলেও মিয়ানমার হায়েনাদের কাছ থেকে নিরাপদে আছি। এদেশের মানুষ খুবই ভালো। তারা নানানভাবে আমাদের সাহায্য করেছে। এখন শুধু পেট ভরে বাচ্চাদের খাওয়াতে চাই। আমি একা মহিলা মানুষ কিভাবে এই সন্তানদের বড় করবো। ওদের ভবিষ্যত কি? প্রশ্ন সবিতার।





