একসময় ভারতকে বলা হতো 'ঘরের মাঠে বাঘ, বিদেশে বিড়াল'। ওই অপবাদ একেবারে ঘুচিয়ে এখনো ফেলতে পারেনি তারা। এখনো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের কন্ডিশনে খাবি খায় প্রায়ই।
বিশেষ করে টেস্টে। তাহলে বাংলাদেশ তো মাত্র ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলা দেশ। যতোই দেশের মাটিতে আগুন ক্রিকেট খেলার ধারাবাহিকতা থাকুক, এবার যে দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি কন্ডিশনে খেলতে হবে। উইকেট যেখানে ফাস্ট। সাপের মতো ছোবল বসায় বল। তাই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলেও এই ব্যাপারগুলো একটু হলেও দুশ্চিন্তা রেখে যাচ্ছে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মনে।আর সেটা বৃহস্পতিবার মিরপুরে সামনের সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লুকালেনও না। 'আমরা যে ধরণের ক্রিকেট খেলে থাকি সেদিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের সবারই একটা ধারণা রয়েছে। বাউন্সি এবং ফাস্ট ট্র্যাকে খেলতে হয়।'
অচেনা পরিবেশের চ্যালেঞ্জ অবশ্য নিচ্ছে দল ও নির্বাচকরা, 'অবশ্যই আমাদের জন্য এটা চ্যালেঞ্জিং সিরিজ। আমরা আশাবাদী। এক-দেড় বছর ধরে আমরা যেভাবে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছি তাতে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।'
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পর সেদিন ছিল হোয়াইটওয়াশ করে ঐতিহাসিক চমক উপহার দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু ঢাকার প্রবল দাপটের পর চট্টগ্রামে গিয়ে অনেকটা নিস্তেজ বাংলাদেশ। হেরেছে বাজে ভাবে। তবে সিরিজটা ১-১ এ ড্র করা তো বিরাট ব্যাপার। সেই গর্ব থাকলেও ওই সিরিজে কয়েকজন ব্যাটসম্যানের রান খুঁজে না পাওয়া কিংবা ভরসা দিতে না পারা ভাবনার বিষয়।
এই ভাবনা নির্বাচকদেরও আছে। ইমরুল কায়েস ৪ ইনিংসে মোটে ২১ রান করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আছেন। তামিম ইকবাল নিজের শহরে নিজেকে খুঁজে পাননি। তার আগে প্রথম টেস্টে ছিলেন দুর্দান্ত। তার পার্টনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে নির্ভরতার আশ্বাস নেই।
তারপরও নান্নু অতোটা চিন্তিত নন। কারণ এই খেলায় ফিরে আসা যায় যখন তখন। সেই প্রত্যাশা থেকেই নান্নু বলতে পারলেন, 'আমাদের টপ অর্ডারে যারা আছে তাদের ক্যাপাবিলিটি আছে ভালো করার। আমি হোপফুল তারা শিগগিরই রানে ফিরে আসবে।' প্রধান নির্বাচকের দেওয়া এই আস্থা নিশ্চয়ই অফ ফর্মের বা লড়তে থাকা খেলোয়াড়দের বড় নির্ভরতা দেবে, মাথার ওপর থেকে হটিয়ে দেবে চিন্তার বোঝা। তা বুঝতে অবশ্য ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।





