ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে স্পিনিং উইকেটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের উইকেট অবশ্য ভিন্ন আচরন করলেও মিরপুর টেস্টে দাপট দেখান স্পিনারা। কন্ডিশন আর গেম প্ল্যানে স্বাভাবিক ভাবেই পেসাররা একটু কম গুরুত্বপূর্ণ হয়েই ছিলেন।

কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই পেসারদের হাতেই থাকবে দায়িত্বের বড় একটা অংশ। যেখানে স্পিনাররা আবার হয়তো একটু কমই গুরুত্ব পাবেন। সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলেও থাকলো পেসারদের আধিক্য। অনুমিতভাবেই ৫ পেসার রাখা হয়েছে দলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে না থাকলেও এক সিরিজ পর দলে ফিরেছেন রুবেল হোসেন ও শুভাশিষ রায়।

রুবেল হোসেন ও শুভাশিষ রায় দুজনই ছিলেন বাংলাদেশের সর্বশেষ বিদেশ সফর শ্রীলঙ্কা সিরিজের টেস্ট দলে। রুবেলের অবশ্য মাঠে নামা হয়নি। তবে শুভাশিষ খেলেছেন দুটি টেস্টেই। নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া শুভাশিষ এ পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৩টি। উইকেট লাভ করেছেন সবমিলিয়ে ৬টি। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সফরের মাঝে ভারত সিরিজের দলে থাকলেও মাঠে নামা হয়নি তার। এদিকে বাংলাদেশের হয়ে ২৪ টেস্ট খেলা রুবেল হোসেন সেই জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন সর্বশেষ টেস্ট। এরপর ভারত সফরে দলে ছিলেন না। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে ডাক পান। কিন্তু মাঠে নামা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলে ছিলেন তিন পেসার- মোস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। তবে তাসকিনকে দুই টেস্টেই বসে থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। প্রথম টেস্টে খেলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল ইসলাম। তবে বাংলাদেশী বোলারদের নেওয়া ২০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন স্পিনাররা। একটি ছিল রান আউট। প্রথম ইনিংসে শফিউল ইসলাম বল করতে পেরেছেন মাত্র ৬ ওভার, মোস্তাফিজ ৮ ওভার। দ্বিতীয় ইনংসে শফিউল তো বলই পেলেন না। মোস্তাফিজ পেলেন মাত্র ১ ওভার।
এরপর দ্বিতীয় টেস্টে শফিউলকে একাদশের বাইরে রেখেই নামে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজ অবশ্য সেই ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ১টি। তবে সার্বিক চিত্রটা পেসারদের একটু আড়ালে পড়ে থাকাই যেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়েও দাপট ছিল স্পিনারদের। যেখানে নায়ক ছিলেন নাথান লায়ন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় চিত্রটা যে ভিন্ন হতে যাচ্ছে সেটি বলে দেওয়াই যায়। যেখানে প্রোটিয়া বোলারদের যেমন সামলাতে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। তেমনি সাফল্য পেতে পেসারদেরই তৈরি করতে হবে ম্যাচের রূপ রেখা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে না হলেও মোস্তাফিজ-তাসকিন-শফিউলরা তাই সেখানে দৃষ্যপটেই থাকবেন। আলোচনায় থাকবেন এক সিরিজ পর ফেরা রুবেল-শুভাশিষও।