বাংলাদেশের জয় কিংবা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভালো কিছু মোটেও সহ্য হয় না ভারতীয় গণমাধ্যমের। ক্রিকেট বিশ্বে যেখানে উন্নয়নশীল দলগুলো ভালো করলে গণমাধ্যমের উৎসাহ পাওয়ার দাবিদার। সেখানে পুরো মুদ্রার উল্টো পিঠ ভারতীয় গণমাধ্যম।

সুযোগ কিংবা কোনো ইস্যু পেলেই তারা বাংলাশের অপপ্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এবারও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে হার এবং সাকিব আল হাসানের ঠুনকো বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এবেলা।

গো নিউজের পাঠকদের জন্য তাদের সেই লেখাটি হুবহু তুরে ধরা হলো।

চট্টগ্রাম টেস্টে চতুর্থ দিনেই সাত উইকেটেই ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান তাড়া করতে নেমে টি-টোয়েন্টির মেজাজে ব্যাট করে সাড়ে পনের ওভারেই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ। তবে দিনের সবথেকে বড় কেলেঙ্কারি করে বসলেন সাকিব অল হাসান।

বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার তিনি। অথচ তিনিই নাকি বল বিকৃতি করে বসলেন চট্টগ্রাম টেস্টে। সিরিজে ০-১’এ পিছিয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ানরা মরিয়া হয়ে লড়াই চালাচ্ছিলেন চট্টগ্রামে। সেই সময়েই নাকি বল বিকৃতি করেছেন সাকিব। এমনটাই দাবি অস্ট্রেলীয় মিডিয়ার।

এক অজি সাংবাদিক নিজের টুইটারে এক ভিডিও পোস্ট করেন, সেখানে স্পষ্ট সাকিবকে দেখা যায় বল মাটিতে ঘষে বলের পালিশ তোলার চেষ্টা করছেন। তারপর অজি সাংবাদিক পল কোচরেন লেখেন, ‘‘এই ভিডিও এদিনের খেলার সময় তোলা। এই ঘটনা হঠাৎ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। বল মাটিতে ঘর্ষণ করা হচ্ছে। সবকিছু মোটেই ঠিকঠাক লাগছে না আমার।’’

এই ভিডিওই পোস্ট করে অস্ট্রেলিয়ার নামি ওয়েবসাইট নিজেদের রিপোর্টে লিখেছে, ‘‘ঘটনাটি ম্যাচ অফিসিয়ালদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছে। তবে এই ভিডিও দেখার পর আইসিসি যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ণ করে তাহলে ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং হবে।’’ সেই প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়েছে, ‘‘তবে সাকিবকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে আরও ফুটেজের অংশ প্রয়োজন। আইসিসি-র নিয়মেই স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই বলের অবস্থা পরিবর্তন করা যাবে না।’’

যাইহোক, সাকিবের ঘটনা চোখ এড়িয়ে গেলেও ভাগ্যকে ফাঁকি দিতে পারল না বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩০৫ তোলার পর নাথান লিয়নের বলে দ্বিতীয় ইনিংসে অসহায়ভাবে অত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ। লিয়নের হাফডজন উইকেটের দাপটে মাত্র ১৫৭ রানে আউট হয়ে যায় আয়োজক দেশ। তারপর বাকি রান সহজেই তুলে দেয় অস্ট্রেলিয়া।