নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনার ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে নরসিংদীর বৃহত্তর করিমপুর চরাঞ্চলের শুটকিকান্দি গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি কমতে থাকায় শুটকিকান্দি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পুরো গ্রামটি ঝুকিতে রয়েছে।
বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস এর নির্দেশে তাৎক্ষনিকভাবে সদর ইউএনও সেলিম রেজাসহ করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারিছ- নদী ভাঙ্গন কবলিত শুটকিকান্দি গ্রামটি পরিদর্শন করেন। এসময় চেয়ারম্যানের নিজস্ব তহবিল হতে নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত ৪২ টি পরিবারের মাঝে নগদ ১ হাজার টাকা ত্রাণ বিতরণ করেন। ভাঙ্গন কবলিতদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে ইউএনও সেলিম রেজা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গত ২ দিনে মেঘনার ভাঙ্গনে করিমপুর ইউনিয়নের শুটকিকান্দী গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছরসহ বিগত কয়েক বছরের নদী ভাঙ্গনে সম্পূর্ন গ্রামটি ঝুকিতে রয়েছে। আরো বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের হুমকিতে থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যেকোনো মুহূর্তে ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়িঘর থেকে আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয়ের স্থানে ছুটে চলছেন গ্রামবাসীরা। নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষ ঘর-বাড়ি হারিয়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ এখন অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারী কোনো সাহায্য-সহযোগিতা এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। দূর থেকে কাউকে আসতে দেখলেই ভাঙ্গন কবলিতরা ভাবে এই বুঝি কেউ তাদের জন্য সাহায্য নিয়ে আসছে।
শুটকিকান্দি গ্রামের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য আ. বাসেত বলেন, ‘সরকার আমাদের এ পর্যন্ত কোনো সাহায্যই দেয়নি। আমার সাজানো ভিটে বাড়িসহ ৪ বিঘা ফসলী জমি মেঘনা গ্রাস করেছে। আমার পরিবার পরিজন এখন সর্বশান্ত।’
শুধু আ. বাসেত নয়, এ রকম প্রায় অর্ধশত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সরকারী সাহায্য সহানুভূতির প্রতিক্ষায় বসে আছে। শুটকিকান্দি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত একজন বলেন, ‘মেঘনার ভাঙ্গনে শুটকিকান্দি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থরা উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে, কিছু কিছু পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি চলে যাচ্ছে।নরসিংদীর বর্তমান ইউএনও সেলিম রেজা বলেন, ‘গত ২-৩ দিনে করিমপুর উপজেলাধীন শুটকিকান্দি গ্রামে প্রচন্ড ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের সাময়িকভাবে সাহায্য করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিতদের পুনর্বাসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।





