পদ্মা পাড়ি দিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল এখন শিমুলিয়া ফেরিঘাটের দিকে আজ বুধবার ভোররাত থেকেই এসব ঘরমুখো মানুষেরা ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। সকাল থেকেই ফেরিঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীবাহী বাড়তি পরিবহনের চাপ দেখা দেওয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরীঘাটে আটকে ছিল শত শত যানবাহন।

এ সময় ফেরি কর্তৃপক্ষ এসব বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আগেভাগেই বন্ধ রাখা হয় পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। এদিকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়ের কারণে ঢাকা শিমুলিয়া মহাসড়কে পরিবহন সঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিরপুর, গুলিস্তান, পোস্তাগোলা থেকে শিমুলিয়াগামী গণপরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। যাত্রীদের তুলনায় পরিবহন সঙ্কটের কারণে ঢাকা শিমুলিয়া রুটের সিটিং সার্ভিস ও লোকাল পরিবহনগুলোতে যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়েও শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে আসছিল।

এ সুযোগে পরিবহন মালিকরা গুলিস্তান ও পোস্তাগোলা থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নির্ধারিত বাস ভাড়া ৭০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা আদায় করা হয়। একই সাথে মিরপুর থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা আদায় করা হয় বলে একাধিক যাত্রীরা অভিযোগ করেন। এদিকে সকাল ১১টার দিকে ফেরীঘাট থেকে শিমুলিয়া চৌরাস্তা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলগামী ঈদে ঘরমুখো বিপুল সংখ্যক যাত্রীরা ফেরীঘাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এ সময় প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করেই শিমুলিয়া চৌরাস্তা থেকে লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট ও স্পীডবোট ঘাটে পায়ে হেঁটে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা যেতে চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত বাসযাত্রীরা। সকালের দিকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ ঘাটে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়। লঞ্চে আগে ওঠার প্রতিযোগীতায় কিছু কিছু ঘরমুখো যাত্রীরা নিজেরাই অভারলোডিং করছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবী অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে কিছু কিছু যাত্রীরা কোন বাধাই না মেনে লঞ্চে উঠছেন। তবে সকাল থেকেই অভারলোডিং ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ অন্যান্য মোবাইল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সীবোট কাউন্টারে আর পন্টুনে ছিল উপচে পড়া ভীড়। তবে এসব যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পড়িয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন স্পীডবোট যাত্রীরা।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) খন্দকার খালিদ নেওয়াজ জানান, সকালের দিকে ফেরীঘাটে একসাথে অনেক ছোট গাড়ী আসায় এ সময় ফেরী পারাপারে যানবাহনের চাপ বেশী ছিল। তবে বেলা বাড়তে থাকায় যানবাহনের চাপ আরো বাড়তে থাকে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে নতুন করে আনা এবং রো রো ফেরী শিমুলিয়া ফেরী বহরে যোগ হলেও পুনরায় সেখানকার ঘাটগুলো সচল হওয়ায় ফেরী গুলো দিয়ে পারা পাড় হচ্ছে।

শিমুলিয়া নদীবন্দরের (ট্রাফিক) সোলাইমান জানান, সবগুলো লঞ্চ চলাচল করছে। গতকালই সকালের দিকে লঞ্চঘাটে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে সবচেয়ে বেশী দেখা দেওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে কিছু কিছু যাত্রীরা নিজেরাই অভারলোডিং হয়ে লঞ্চে উঠছেন। এতে কিছুটা অভারলোডিং হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।