বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে ২০ বছর জেলে থাকতে হবে। তার দুই সেবাদাসীকে ধর্ষণের অভিযোগে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুইজন সেবাদাসীকে ধর্ষণের জন্য তার ১০ বছর করে (মোট ২০ বছর) কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তার ৩০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে বলে বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল তার ১০ বছরের জেল হয়েছে। পরবর্তীতে আইনজীবীরা বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, তার মোট ২০ বছর জেলে থাকার সাজা হয়েছে। দুইজন সেবাদাসীকে ধর্ষণের জন্য তাকে ১০ বছর করে মোট ২০ বছর জেলে থাকতে হবে।

এ সাজা ঘোষণা করার জন্য সোমবার (২৮ আগস্ট) আদালতকেই জেলখানায় নিয়ে আসা হয়। আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন। তবে রাম রহিমের আইনজীবী তাকে নির্দোষ দাবি করে মুক্তি দেওয়ার আর্জি করেন।

আদালত উভয় পক্ষকে ১০ মিনিট করে শুনানির সময় দেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রায় ঘোষণার সময় রাম রহিম কাঁদছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। আদালতে বিচারকের নির্দেশের পর পিন পতন নিরবতা নেমে আসে। সে সময়েই রায় ঘোষণা করা হয়।

১৫ বছর আগে দুই শিষ্যকে ধর্ষণের অপরাধে গত শুক্রবার রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেন হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলায় সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। সাজা ঘোষণা করেন, সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিংহ। পাশাপাশি সরকার বিচারক জগদীপ সিংহের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সরকারের একটি হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে নেওয়া হয় জেলখানায়। রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারের একাংশকে এজন্য আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানেই শাস্তির রায় শোনার অপেক্ষায় ছিলেন রাম রহিম।

এর আগে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) একটি বিশেষ আদালত গত শুক্রবার রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ সোমবার দুপুরে তাঁর সাজা ঘোষণা করা হলো।