সীমান্তে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সদস্যদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারকে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার বাহিনীর রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই বাংলাদেশ এই প্রস্তাব দিল।
সোমবার বিকালে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব দেয়া হয়।
এসময় সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা কমিয়ে আনতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সহায়তা কামনা করা হয়।
বিগত কয়েক দশক ধরেই রক্তাক্ত মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন। রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমদের দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনি জান্তা সরকার। মাঝে মাঝেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের নির্মমতা।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উগ্রপন্থী বৌদ্ধারাও চালায় হত্যাযজ্ঞ। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া আর রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ যেন নিত্য ব্যাপার।
চলতি মাসের শুরুতে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। ঘোষণা দেয় অভিযানের। এরই মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বদলা নিতেই রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ পোস্টে হামলা ও একটি সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
গত বছরের অক্টোবরে এমনই এক হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহ্বান জানায়। এরপর কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে রোববার সকাল পর্যন্ত সরকারি বরাতে ৯৬ জন নিহতের খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এর মধ্যে ৮৪ রোহিঙ্গা মুসলিম আর ১২ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। তবে রোহিঙ্গা মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অভিযোনে চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর স্রোতের বেগে সীমান্তে আসছে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত। এসব এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বিজিবির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তারা রাতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে।
ইতোমধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আসা দুই রোহিঙ্গা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, অন্তত ৩ থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে।





