ভক্তি এবং ভয়ের অদ্ভুত সংমিশ্রণ। আর দুইয়ের জোরেই বছরের পর বছর ধরে নিজের কুকীর্তি চালিয়ে গিয়েছেন স্বঘোষিক বাবা রাম রহিম সিং। এমনকী, মহিলাদের নিজের লালসার শিকার করার জন্য আধ্যাত্মিক বুলি আওড়াতেন এই ভণ্ড বাবা।

তবে বিতর্কীত এই ধর্মগুরুর কুকীর্তি হয়তো কোনওদিনই প্রমাণিত হত না, যদি না নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সিবিআই আদালতের বিচারকের সামনে সাহস করে বলতেন আশ্রমের দুই সাধ্বী।

২০০৯ এবং ২০১০ সালে দেওয়া ওই দুই মহিলার গোপন জবানবন্দিকেই গুরু রাম রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা সম্ভ্রমহানীর অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আদালত। যার জেরে নিজের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে এখন জেলে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন এই ধর্মগুরু।

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, হরিয়ানার যমুনানগরেরর বাসিন্দা এক সাধ্বী ২০০৯ সালে

সিবিআই আদালতের বিচারকের সামনে গুরু রাম রহিমের বিরুদ্ধে গোপন জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৯ সালের জুলাই মাস থেকে তার দাদার কথায় ডেরা সচ্চা সওদার আশ্রমে তিনি থাকতে শুরু করেন। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই তার সম্ভ্রমহানী করেন রাম রহিম। এর পরে অবশ্য নিজের বোনের সম্ভ্রমহানীর প্রতিবাদ করায় তার ভাইকেই খুন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই মহিলা।

২০১০ সালে গোপন জবানবন্দি দেওয়া হরিয়ানার সিরসার বাসিন্দা আর এক মহিলা জানিয়েছিলেন, বাবার গোপন ডেরা পাহারা দেওয়ার সময়ে তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সম্ভ্রমহানী করেন বাবা রাম রহিম। এই বিষয়ে কাউকে কিছু না জানানোর জন্যও হুমকি দেন স্বঘোষিত গডম্যান।

ওই জবানবন্দিতে দুই মহিলাই জানান, বাবার গোপন ডেরা পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব মহিলাদেরই রাখা হত। তাদেরকেও অবশ্য নিজের লালসার শিকার করতেন বাবা রাম রহিম। এমনকী, সাধ্বীদের নিজের লালসার শিকার করার জন্য নিজেকে ভগবানের অবতার বলে দাবি করতেন তিনি।

শুধু তাই নয়, গোপন জবানবন্দিতে ওই মহিলারা জানান, বাবার লালসার শিকার হওয়া সাধ্বীরা ‘সম্ভ্রমহানী’-এর বদলে ‘মাফি’ শব্দটি নিজেদের মধ্যে সাংকেতিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতেন। অর্থাত্‍ যারা সম্ভ্রমহানীর শিকার হতেন, তারা বাবার কাছে ‘মাফি’ পেয়েছেন বলে নিজেদের মধ্যে কথা বলতেন। প্রথম প্রথম এই কথা না বুঝলেও নিজেরা বাবার লালসার শিকার হওয়ার পরে ‘মাফি’ কথাটির অর্থ বুঝতে পারেন।

তবে দু’জনেই জানান, অধিকাংশ মেয়েই বাবার আধ্যাত্মিক কথায় মুগ্ধ হয়ে এবং পরিবারের জোরাজুরিতেই ডেরা সচ্চা সওদার আশ্রমে সাধ্বী হিসেবে থাকতে রাজি হতেন। আর তাদেরকে বছরের পর বছর নিজের লালসার শিকার করতেন রাম রহিম।