প্রায় সমসাময়িক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। তামিমের চেয়ে চারটি ওয়ানডে বেশি খেললেও টেস্ট খেলেছেন সমান ৫০টি। অথচ এতো সময়ের মধ্যে মাত্র ৫টি টেস্টে একত্রে ব্যাটিং করার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের। যার একটি হলো রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
দলের বিপদে বড় প্রয়োজনীয় জুটিটি ১৫৫ রানের। অথচ এমন জুটি গড়ার আগে নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো কথাই বলেননি এই দুই তারকা। রোববার মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন সাকিব।
এদিন সাকিব যখন ব্যাটিংয়ে আসেন স্কোর বোর্ড তখন দুই অঙ্ক ছুয়েছে মাত্র। প্যাট কামিন্সের আগুণ ঝরানো বোলিংয়ে লন্ডভন্ড টাইগাররা। ঠিক সে সময় যেমন ব্যাটিংয়ের দরকার তেমনটাই করেছেন সাকিব। সঙ্গী ছিলেন দীর্ঘ দিনের বন্ধু ও সতীর্থ তামিম। দুই জনই আবার একই দিনে ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ টেস্ট খেলার মাইলফলক। তবে উইকেটে এসে নীরবেই ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন সাকিব।
১৫৫ রানের জুটিটি কেবল দিন শেষে অজিদের চেয়ে টাইগারদের এগিয়েই রাখেনি। তার আগে বাঁচিয়েছে মানও। কারণ এ জুটি ছাড়া বাকি ৯টি জুটিতে এসেছে মাত্র ১০৫ রান! তাই এমন কার্যকরী ব্যাটিংয়ের পর প্রশ্নটা থেকেই যায় কি কথা হয়েছিল দুইজনের মধ্যে। সাকিবের ভাষায়, ‘কিছুই না। ওভাবে কথা হয় না তো। শুধু ব্যাটিং করতে থাকা। যতক্ষণ সম্ভব। প্রথম সেশন যাওয়ার পর আমরা আরো ভালো ব্যাটিং করছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দুটো বল লাফিয়ে উঠেছিলো। ওই জন্যই আমাদের উইকেটটা হারাই।’
স্বাভাবিকভাবেই ভাবনাটা জাগে কোনো আলোচনা ছাড়াই ১৫৫ রানের জুটি! বোঝাপড়ারওতো ব্যাপার থাকে। রহস্যটা উন্মোচন করলেন সাকিব নিজেই, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের জন্য কাজটা সহজ ছিলো। কারণ অনেক দিন একসঙ্গে খেলছি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব আছে এমন নয় ব্যাপারটা। দুজনেরই ৫০ টেস্ট হচ্ছে। বোঝাপড়া নিয়ে শঙ্কা থাকার কথাও নয়।’
এক দশকের বেশি সময় একত্রে জাতীয় দলের তাবুতে খেলছেন সাকিব-তামিম। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই দলে খেলেছেন বহুবার। তাই দুইজনের মধ্যে রসায়নটা সবসময়ই দারুণ। আর তার প্রমাণ রাখলেন আরও একবার। তবে কাজ এখনও অনেক বাকি। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান করার পর প্রতিপক্ষের ৩টি উইকেট নিয়েছে ১৮ রানে।





