বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটার পুনরাবৃত্তি যেন করে দেখাল অস্ট্রেলিয়া। দিনের শুরুতে অস্ট্রেলীয় পেসারের গতিতে বিভ্রান্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং। স্কোরবোর্ডে ১০ রান উঠতেই নেই ৩ উইকেট।

দিন শেষেও ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়া। সাকিব ও মিরাজ একটি করে উইকেট নিয়েছেন। আরেকটি রান আউট। শেষ পর্যন্ত আরও ৩ রান যোগ করে দিন শেষ করেছে অজিরা।

ওপেনিং জুটিতে মাঠে নেমেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ম্যাট রেনশো। তবে শুরুটা ভাল করতে পারেননি ওয়ার্নার। মিরাজের স্পিন ঘুর্নিতে এলবিডব্লিউতে কাবু হয়ে ব্যক্তিগত ৮ রানে সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ১ রানে সাকিবের ওভারে রান আউট হয়ে ফিরে যান উসমান খাজা। এক বল পরেই আবার সাকিবের আঘাত। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে পা বাড়ান নাথান লায়ন।

বহুল প্রতীক্ষিত দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। আর টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে মহা বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর ফিরে যান ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমান।

কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়েই ইনিংস গড়েছেন দেশের হয়ে নিজেদের ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। কিন্তু প্রত্যাশিত স্কোরে যেতে পারেনি টাইগাররা। মাত্র ২৬০ রানেই থেমে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স ৩টি, নাথান লায়ন ৩টি, অ্যাশটন আগার ৩টি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১টি করে উইকেট নিলেন।

২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১১ সালে অজিদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই সফরে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে শুধু তিনটি ওয়ানডেই খেলে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার দুটি টেস্ট খেলার কথা থাকলেও নিরাপত্তার অজুহাতে সিরিজটা স্থগিত করে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬০ (৭৮.৫ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৭১, সৌম্য সরকার ৮, ইমরুল কায়েস ০, সাব্বির রহমান ০, সাকিব আল হাসান ৮৪, মুশফিকুর রহিম ১৮, নাসির হোসেন ২৩, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮, তাইজুল ইসলাম ৪, শফিউল ইসলাম ১৩, মোস্তাফিজুর রহমান ০*; জস হ্যাজলেউড ০/৩৯, প্যাট কামিন্স ৩/৬৩, নাথান লায়ন ৩/৭৯, অ্যাশটন আগার ৩/৪৬, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১/১৫)।