স্বামীর অধিকার চেয়েছিলেন নাসরিন সুলতানা নামের তরুণী। তারপর মামলা। গ্রেপ্তার হন ক্রিকেটার আরাফাত সানি। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে সমঝোতা হয় তাদের। একসঙ্গেই বসবাস করছিলেন সানি-নাসরিন।
এরমধ্যেই ঘটে ঘটনাটি। ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নাসরিন সুলতানা। আত্মহত্যার চেষ্টার আগে আরাফাত সানি দায়ী হবেন বলে একটি সুইসাইডাল নোট লিখেন। নাসরিন সুলতানার অবস্থা এখন গুরুতর। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডির রেনেসাঁ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন।
সুইসাইডাল নোটে নাসরিন লিখেছেন, ‘আব্বা-মা, আল্লাহর রহমতে দুই হাত জোর করে তোমাদের অনুরোধ করতেছি, দয়া করে আমাকে হসপিটালে নিও না। আল্লাহর দোহাই লাগে আমাকে আমার মতো মরতে দাও। আমার জন্য অনেক জ্বালা নিসো, আর নিও না। মরার পর মাটি দিও কিন্তু হসপিটালে নিও না প্লিস। এতো অপমান সহ্য না করে মরে যাওয়া অনেক ভালো। প্লিজ আমাকে মরতে দাও। আমার আজকের এই অবস্থার জন্য শুধু সানী দায়ী। আল্লাহ যাতে ওর বিচার করে। আমার মৃত্যুর জন্য সানী দায়ী। -নাসরিন’।
এ বিষয়ে নাসরিনের বোন শারমিন সুলতানা জানান, তার বোন আত্মহত্যার চেষ্টার আগে সুইসাইডাল নোট লিখে গেছেন। তিনি মারা গেলে তার জন্য দায়ী হবেন আরাফাত সানি।
শারমিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমার আপু নাসরিনের মোবাইলে সানির একটি কল আসে। এ সময় তিনি বাইরে গিয়ে কথা বলেন। কথা বলার সময় তিনি কান্নাকাটি করতে থাকেন। ক্ষোভে তিনি ঘুমের ওষুধ সেবন করেন।
পরে তিনি প্রায় ৫০টি ঘুমের ওষুধ খান। পরিবারের লোকজন ঘুমের ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডির রেনেসাঁ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে (ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট) ভর্তি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২শে জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন নাসরিন সুলতানা। ওই মামলায় আসামি করা হয় জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে। মোবাইলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি দিয়ে বাদীর মানসম্মানে আঘাত দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়াও সানি তাকে বিয়ে করে ২০ লাখ টাকার যৌতুক দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশের একটি দল সাভার এলাকা থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করে। সর্বশেষ সানি ও নাসরিনের মধ্যে সমঝোতা হলে মুক্ত হন আরাফাত সানি।





