সাভারের হেমায়েতপুর থেকে চামড়া শিল্পনগরী পর্যন্ত রাস্তাঘাটের বেহাল দশা থাকায় গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভেতরের সড়কের অবস্থাও আরো শোচনীয় থাকায় কোরবানি ঈদের সময় কাঁচা চামড়াবাহী ট্রাক পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে শনিবার সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা এসব কথা বলেন।
তার বলেন, চামড়াবাহী ট্রাক আটকে গেলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়ে চামড়া পচন ধরতে পারে, যাতে জনদুর্ভোগের সীমা থাকবে না। সে ক্ষেত্রে চামড়া নষ্ট হওয়ার দায়দায়িত্ব ট্যানারি মালিকেরা নেবে না।
সমিতির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অনেক আগে থেকেই। ট্যানারি স্থানান্তরের ফলে চামড়া যথাসময়ে সংগ্রহ করে হেমায়েতপুর শিল্পনগরীতে নিয়ে যাওয়া সময়সাপেক্ষ।
তিনি বলেন, চামড়া ছাড়ানোর ছয় ঘণ্টার মধ্যে পরিমাণমতো লবণ দিতে হয়। না দিলে চামড়ার পচন রোধ করা কঠিন। তার মাঝে এ বছর যুক্ত হলো নতুন ট্যানারির ভাঙ্গা রাস্তা। তারপরও ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংরক্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, চামড়ার গুণমান ভালো থাকলেই দাম ভালো পাওয়া যায়। গত বছর লবণের অভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়ার গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এবারও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি বলেন, সারা বছর এক বস্তা লবণের দাম থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ছিল। কোরবানি ঈদ সামনে আসায় ১,১০০ থেকে ১২০০ টাকা হয়ে যাওয়ায় চামড়া নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে সরকার যে পাঁচ লাখ টন লবণ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে, সেটির ব্যাপারে তদারকি থাকলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে বলে জানান মহিউদ্দন আহমেদ।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, হেমায়েতপুরে ৭০টি ট্যানারিতে উৎপাদন শুরু করেছে। হাজারীবাগের চেয়ে হেমায়েতপুরের সক্ষমতা দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। তাই রাস্তাঘাট ঠিক থাকলে এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিরবচ্ছিন্ন পাওয়া গেলে কোরবানির বিপুল পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াকরণে কোনো সমস্যা হবে না।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দিলজান ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল প্রমুখ।




