প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানায়, মৃত স্কুলছাত্রীর নাম রিমা খাতুন (১৫)। সে সদর উপজেলার বল্লী গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রী জাকির আলী খাঁ’র মেয়ে।

রিমা বল্লী বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ছাত্রীর মা ফজিলা খাতুন জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে তার মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে মহব্বত আলী (১৭)। সে তার চাচাতো শ্বশুর আনছার আলী খাঁ’র ছেলে এবং আমতলা খানজাহান আলী দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনাটি তার চাচা শ্বশুরকে জানালে তারা ক্ষুব্ধ হন।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর তার মেয়ের প্রাইভেট শিক্ষক রেজাউল ইসলাম পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে চাচা শ্বশুর আনছার খাঁ ও তার ছেলে মহব্বত ওই ঘরের দরজায় ছিকল তুলে দেয়। ওইদিন তারা বাড়িতে ছিলেন না।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বাড়িতে চলে আসি। এরপর চাচা শ্বশুর হযরত আলীর বাড়ির উঠানে সালিশি বৈঠক বসে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের আনছার আলী খাঁ, মিজানুর রহমান, বেলাল হোসেন, আব্দুল মজিদের ছেলে হাফিজুর রহমান, ছাতিয়ানতলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, আব্দুল বারী, তার ছেলে হাফিজুর রহমানসহ উভয়পক্ষের ১৪ জন।
সালিশে রিমা ও রেজাউলকে গালিগালাজ করা হয়। রেজাউল বিবাহিত হওয়ায় বিয়ের বিষয় বাদ দিয়ে মেয়ের বিয়ের জন্য ওই শিক্ষকের বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমান। পরে আগামী সোমবার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মিজানুর রহমানের কাছে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে রেজাউলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সালিস শেষে রিমাকে তার চাচী হযরত আলীর স্ত্রী শাহীদা বেগমের সঙ্গে ঘুমোতে বলা হয়। রাত সাড়ে তিনটার দিকে রিমাকে বিছানায় না পেয়ে শাহীদা বেগম বিষয়টি তাকে (ফজিলা) জানান।
খোঁজাখুজির একপর্যায়ে বাড়ির উঠানের একটি আমগাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমাকে দেখতে পাওয়া যায়।
ফজিলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, সালিশি বৈঠকে গালিগালাজ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে রিমা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য আনছার খাঁ ও মহব্বতকে দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনছার খাঁ তার ছেলে মহব্বতের বিরুদ্ধে আনীত অভিাযোগ অস্বীকার করে বলেন, রেজাউল বল্লী স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে কোচিং করায়। বাবা, মা ও ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে রিমা ও রেজাউল শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঘরের মধ্যে অনৈতিক কাজ করছিল বলে জানতে পেরে ঘরের ছিকল তুলে দেওয়া হয়।
মুদি ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, তারা সালিশ করেছিলেন ঠিকই। তবে ওই টাকা হাতে পেলে রিমার বাবার কাছে দেওয়ার কথা ছিল। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ঘরোয়াভাবে এক জায়গায় তারা বসেছিলেন বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদ জানান, ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলেই মামলা নেওয়া হবে।