রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ও প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে মায়ানমার সরকার।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত বৃহস্পতিবার তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনত প্রকাশ করে যেখানে জাতিগত ও ধর্মীয়ভাবে বিভক্ত রাখাইনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্পর্কে মায়ানমার সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়।

কমিশনের সাথে স্টেট কাউন্সিলার আং সান সুচির বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এ খবর দিয়েছে দি ইরাবতী।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‌তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ হিসাবে, সরকার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের নেতৃত্বে একটি নতুন কমিটি গঠন করবে।’

সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তত্ত্বাবধান করবেন এবং নিয়মিত রিপোর্টিং করবেন। এছাড়া রাখাইনের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি পরামর্শক বোর্ড গঠন করা হবে যা এই কমিটির কাজে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘‌আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য একটি সম্পূর্ণ রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে পারব বলে আশা করি।’

সরকার বলেছে যে, রাখাইন রাজ্যের সমস্যাগুলি রাতারাতি সমাধান করা যাবে না কিন্তু এর জন্য ‘‌অর্থপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে তারা স্বাগত জানায়।’

এদিকে, মায়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দাবি করেন, কমিশনের রিপোর্টে কিছু তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে।

কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে মায়ানমারের ১৯৮২ এর নাগরিকত্ব আইনের বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করা হয়েছে মূলত আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। এছাড়াও রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এই নাগরিকত্ব আইনের সাথে মায়ানমার স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির অধীনে অ-বৈষম্যের নীতিগুলো সাংঘর্ষিক। এমনকি তা ২০০৮ সালের সংবিধানসহ সম্প্রতিক অনুমোদিত কয়েকটি আভ্যন্তরীণ আইনের সাথেও সাংঘর্ষিক। সুপারিশে জাতীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যের যোগ্য ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য একটি স্বচ্ছ কৌশল এবং সময়রেখা সৃষ্টিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।