বরিশালে দুটি পৃথক ঘটনায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে চিকিতসারত ডক্টর তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।

পরে তাদের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। নিহতরা হলেন- ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুঠিয়া গার্লস স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মিনা আক্তার (১৭) এবং বরিশাল শহরের ধান গবেষণা রোডের মো. ফয়সাল (২৭)।

শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, ঘটনা দু’টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

স্কুলছাত্রী মিনা আক্তারের বড় বোন সাথী বেগম জানান, তার বোনকে ৩ থেকে ৪ মাস আগে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার উত্তর উরারচর এলাকার ইব্রাহিম ফরাজী নামে এক যুবক অপহরণ করেন। ঘটনার ৭ দিনের মাথায় থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর মিনা বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে কেরানিগঞ্জের কালিগঞ্জে বাবার বাসা থেকে মিনাকে বরিশালের বন্দর থানাধীন সাহেবের হাট বাজার সংলগ্ন বোন সাথী বেগমের স্বামী রিয়াদ হোসেনের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত বছর মীনার জেডিসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এখানেই সে পড়াশোনা শুরু করে।

শনিবার সকালে সবাই ঘুম থেকে উঠলেও মীনার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে বসত ঘরের রান্না ঘরে গিয়ে মিনাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শহরের ধান গবেষণা রোডের বাসিন্দা ফকরুল মিয়ার ছেলে ফয়সাল (২৮) গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের ভেতরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালালে পরবর্তিতে তাকে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের বরাত দিয়ে ওয়ার্ড মাস্টার জানান, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছে।”