চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার ভোগাইল বগাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর সামাজিক অপমান ও লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে ওই গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক থাকায় পুলিশতাকেই আসামির তালিকায় এক নম্বরে রেখেছে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাদল মোল্লার মেয়ে পলিকে এক সন্তানসহ গত ৩ মাস আগে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী ভোগাইল বগাদী গ্রামের ওলিদ ফকিরের ছেলে এনামুল হক।

গ্রামবাসী জানায়, প্রথম স্ত্রী সন্তান রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করায় পরিবারের চাপে এনামুল দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামেই ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।

বাড়ির মালিক সামাদ আলী জানান, বুধবার (২৩ আগস্ট) রাত ২টার দিকে মুখ বাঁধা অবস্থায় ১০/১৫ জনের একটি দল দূর্বত্ত বাড়ি থেকে এনামুল ও তার স্ত্রী পলিকে তুলে নিয়ে যায়। ভোরে অনেকটা মুমূর্ষু অবস্থায় গৃহবধূ পপি ও এনামুলকে আবার বাড়িতে রেখে যায়। এ সময় এনামুলকেও সামান্য আহত অবস্থায় দেখা যায়। বাড়িতে রেখে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই গৃহবধূ পলি খাতুন বিষপান করে। পরে স্থানীয়রা তাকে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দুপুরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানাতে নিয়ে আসে।

প্রতিবেশী রোমেসা খাতুন জানান, গৃহবধূ পলির মুখেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও নোখের আঁচড়ানো দাগ আছে। ধারণা করা হচ্ছে দূর্বত্তরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। সামাজিক অপমান ও লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে গৃহবধূ পলির বিষপানে আত্মহত্যা দাবি গ্রামবাসীর।

নিহতের মা সুখজান নেসা ও বড় বোন লিপি খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই এনামুলের দুই ভাই মিজান ও মিনারুল পলিকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতো। তাদের ধারণা এদের সহযোগিতায় পলিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এনামুল পলাতক থাকায় এই অপহরন ও নির্যাতনের সাথে সে নিজেও জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আকরাম হোসেন জানান, গৃহবধূর শরীরে বিভিন্ন আঘাতের রিঢ়ব থাকায় তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ এ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।