সব ফরম্যাটেই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঝে মাঝে নামেন, আবার ফিরে পান জায়গা। দীর্ঘ সময় থেকেই এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়ে থাকলেও সেটা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই তার। আগ্রহ আছে নতুন নতুন রেকর্ড করায়।

এবার যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোন ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেই ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই পাঁচ উইকেটের বৃত্ত পূরণ হয়ে যাবে। র‍্যাঙ্কিং নিয়ে না ভাবলেও সাকিবের ভালো করেই চোখ আছে তাতে। 

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার বলেন, 'র‍্যাঙ্কিং অতোটা খেয়াল করি না। মাঝে মাঝে স্ক্রলে দেখি। মা সব সময় নিউজ দেখেন। মার সাথে থাকলে টিভির স্ক্রলে দেখা হয়।'
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেলেই অনন্য বৃত্ত পূরণ হয়ে যাবে, তা ঠিকই মাথায় আছে, 'ওইটা মনে আছে। চারটা ইনিংস আছে, দেখা যাক। কতোটা বেশি অবদান রাখতে পারি, সেটাই বড়।'
নিজের মাইলফলকের চেয়ে দলের সাফল্য পাওয়াকেই দেখছেন আগে, 'দেখা গেলো অন্য কেউ ভালো বোলিং করে পাঁচ উইকেট পেলো, দলের জন্য সেটা ভালো। উইকেট পাওয়াটা নিজের হাতে নাই। দেখা যাবে অনেক সময় দারুণ বোলিং করেও অন্য কেউ উইকেট পায়। আবার অনেক সময় ভালো বোলিং না করেও উইকেট পাওয়া যায়। বোলিংয়ের জুটিটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জুটি গড়ে কতোটা ভালো বোলিং করতে পারি, এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।'
২০০৮ সালে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। পাঁচ বা তারবেশি উইকেট নেওয়ার ওটাই শুরু। তখন থেকেই তার কাছে বেড়েছে প্রত্যাশার চাপ। সে চাপ সামলে বারবার পারফর্ম করেছেন তিনি। চাপ কি আগের মতই আছে নাকি এখন কিছুটা কম? সাকিবের জবাব, 'এখন মিরাজ-তাইজুল খুবই ভালো বোলিং করছে। তাদের আগে সাপোর্ট করেছে কখনো রাজ ভাই, রফিক ভাই ছিলো কিছুদিন।'
তবে আগের চেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রক উইকেট বেশি পাওয়া হচ্ছে বলেও জানালেন, 'আগে যেটা হতো, হেল্পফুল উইকেট পেতাম না। কারণ তখন জেতার সুযোগ ছিলো না, চিন্তা ছিলো না। এখন তো জেতার জন্যই খেলবো বলে চিন্তা করি। ফলে বোলারদের জন্য হেল্পটা বেশি থাকে।'
ক্যারিয়ারে ১৫ বার পাঁচ উইকেট পেয়েছেন সাকিব। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি তিনবার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুবার করে নিয়েছেন তা। ভারত আর পাকিস্তান তার স্পিন কিছুটা ভালো খেলে। ওই দুদলের বিপক্ষে এই রেকর্ড একবার করে। লাল বলে অস্ট্রেলিয়ানরা সাকিবকে কেমন খেলে, তিনিই বা স্মিথদের কতটা ধন্দে ফেলতে পারে তা দেখবে খুব বেশি অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।
২৭ আগস্ট মিরপুরে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্ট। ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে নামবে দুদল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দুই টেস্ট মিলিয়ে চার ইনিংসে বল করার সুযোগ পাবেন তিনি।