কানাডাভিত্তিক তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সব চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে ওই চুক্তি দুটি হয়েছে। যত দিন সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণ আদায় ও অর্থ আদায় মামলার নিষ্পত্তি না হয়, তত দিন নাইকোকে কোনো ধরনের পেমেন্ট করা যাবে না। ওই দুই চুক্তির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে যাবে। এ ছাড়া ব্লক-৯-এ নাইকোর যে সম্পত্তি আছে, তা জব্দের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অনুকূলে যাবে।

আদালতে রায় ঘোষণার সময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। নাইকোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সালিসে (বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা) নিয়োজিত আইনজীবী মঈন গনি

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। একটি বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের চুক্তি, অপরটি পেট্রোবাংলার সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার চুক্তি।

গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধান কূপ খননকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলায় দুই দফা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে মজুদ গ্যাস পুড়ে যায়। আশপাশের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, যা দিতে নাইকো অস্বীকৃতি জানায়।

এ সংক্রান্ত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম একটি রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার চুক্তি সঠিকভাবে হয়নি। দুর্নীতি মাধ্যমে হয়েছে। এছাড়া ২০০৫ সালে ছাতকে যে বিস্ফোরণ হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ হিসাবে বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পত্তি জব্দের জন্য আবেদন করা হয়।